আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবোদিশা: জার্মানির রাজনৈতিক ইতিহাসে এক সন্ধিক্ষণ তৈরি হয়েছে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। ‘অল্টারনেটিভ ফর ডয়েচল্যান্ড’ (এএফডি) নামের উগ্র ডানপন্থি দলটি এবার স্যাক্সনি-আনহাল্ট অঞ্চলের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের লক্ষ্যে মরিয়া হয়ে উঠেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী জার্মানির ইতিহাসে এই প্রথম কোনো উগ্রপন্থি দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার এত কাছাকাছি পৌঁছেছে।
উগ্র ডানপন্থার উত্থান ও চ্যান্সেলরের সংকট
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এএফডির এই জয় কেবল একটি আঞ্চলিক ঘটনা নয়, বরং এটি জার্মান রাজনীতির মূলধারায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দলের প্রধান প্রার্থী উলরিখ সিগমুন্ড, যাকে ‘জার্মানির সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ডের স্পিগেল ম্যাগাজিন, তিনি সংবাদমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। যদিও তার দলের বিরুদ্ধে অতীতে নিও-নাৎসি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে, তবে তিনি কৌশলে সেসব উপেক্ষা করে ভোটারদের মন জয়ে সফল হয়েছেন।
এই নির্বাচন একইসাথে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে কনজারভেটিভ চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্জকে। জনগণের তোপের মুখে পড়া মের্জের রাজনৈতিক সক্ষমতা নিয়ে এরই মধ্যে দলের ভেতরে ও বাইরে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে উগ্র ডানপন্থার উত্থান ঠেকাতে তিনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা ব্যর্থ হওয়ায় তাকে এখন চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে।
ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পথে জার্মানি
এএফডির এই সম্ভাব্য জয়কে তারা জাতীয় পর্যায়ে ক্ষমতা দখলের একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছে। দলের প্রতিপক্ষের জন্য এই পরিস্থিতি চরম উদ্বেগজনক, কারণ এটি জার্মানির গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিতে পারে। চ্যান্সেলরের জনপ্রিয়তা হ্রাস এবং উগ্রপন্থার জোরালো উত্থান—সব মিলিয়ে আসন্ন দিনগুলোতে বার্লিনের রাজনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, জার্মান ভোটাররা শেষ পর্যন্ত প্রথাগত রাজনীতির ওপর আস্থা রাখেন নাকি উগ্র ডানপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়েন।

মন্তব্য করুন