📅 শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬  |  ২০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নবোদিশা সত্য ও ন্যায়ের সাথে প্রতিদিন
বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রে এআই নজরদারি ক্যামেরায় ভাঙচুর: নিরাপত্তা না গোপনীয়তা?

যুক্তরাষ্ট্রে এআই নজরদারি ক্যামেরায় ভাঙচুর: নিরাপত্তা না গোপনীয়তা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবোদিশা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনের ওল্ড ব্রেসউড এলাকায় সম্প্রতি চারটি অত্যাধুনিক নজরদারি ক্যামেরা রাতের অন্ধকারে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। ‘ফ্লক সেফটি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি এই ক্যামেরাগুলো মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে গাড়ির নম্বর প্লেট শনাক্ত করে। একই ধরণের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড মিনেসোটা, ক্যালিফোর্নিয়া এবং জর্জিয়াতেও রেকর্ড করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বনাম ব্যক্তিগত গোপনীয়তা

প্রযুক্তি কোম্পানিটির দাবি, তাদের এই এআই-চালিত নজরদারি ব্যবস্থা অপরাধ দমনে অভাবনীয় ভূমিকা রাখছে। কোম্পানিটি সারা দেশ জুড়ে প্রায় ১ লাখ ক্যামেরা স্থাপন করেছে, যা অপরাধীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক বলে দাবি করা হয়। তবে এই ক্যামেরাগুলো নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে।

সমালোচকরা মনে করেন, এই ব্যবস্থা নাগরিকদের ওপর অতিমাত্রায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে এবং প্রত্যেক সাধারণ গাড়ি চালককে সন্দেহভাজন হিসেবে চিত্রিত করে। ক্যামেরাগুলো কেবল গাড়ির পেছনের ছবিই তোলে না, বরং তা দীর্ঘ সময় সংরক্ষণও করে। ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে অনেকে মনে করছেন।

বর্তমানে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থার সংকট প্রকট। ফ্লক সেফটির ক্যামেরাগুলোকে অনেকেই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে দেখছেন, যা তাদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে। প্রযুক্তির দ্রুত প্রসার এবং এআই-এর প্রভাব মানুষের দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিকতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

ফ্লক সেফটি নির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ না করলেও প্রায় ৭ হাজার কমিউনিটির সঙ্গে তারা কাজ করছে বলে জানা গেছে। তবে নজরদারির এই বিস্তৃতি আগামী দিনে আরও বড় ধরণের সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক চলমান। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নেশায় আমরা কি তবে নজরদারির এক চরম বাস্তবতায় প্রবেশ করছি?

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.