📅 শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬  |  ২০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নবোদিশা সত্য ও ন্যায়ের সাথে প্রতিদিন
বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

এআই কি মানবজাতির বিলুপ্তি ঘটাবে? বিস্ফোরক দাবি গবেষকের

এআই কি মানবজাতির বিলুপ্তি ঘটাবে? বিস্ফোরক দাবি গবেষকের

প্রযুক্তি ডেস্ক, নবদিশা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে ব্যাপক চর্চা। তবে এই প্রযুক্তির বিকাশ নিয়ে এবার খোদ এআই নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ভেতর থেকেই উঠল চরম উদ্বেগের সুর। অ্যানথ্রপিক নামক শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের একজন গবেষক দাবি করেছেন, এআই-এর কারণে মানবজাতি বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকি ১০ শতাংশেরও বেশি।

সম্প্রতি জ্যাকব কক্সন নামক অ্যানথ্রপিকের এক গবেষক প্রতিষ্ঠান থেকে পদত্যাগ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই-এর মতো সংস্থাগুলো দায়িত্বশীল আচরণ করছে না। তিনি স্পষ্টভাষায় বলেছেন, এই প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত মানবজীবন নিয়ে জুয়া খেলছে।

অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে এআই?

কক্সনের মন্তব্যের রেশ ধরে অ্যানথ্রপিকের অ্যালাইনমেন্ট সায়েন্স লিড ইভান হুবিঞ্জার এক বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি জানান, কক্সনের আশঙ্কা অমূলক নয় বরং বাস্তবসম্মত। হুবিঞ্জারের মতে, আগামী এক দশকের মধ্যে এআই-এর কারণে মানবজাতির অস্তিত্ব সংকটে পড়ার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি।

হুবিঞ্জার আরও স্বীকার করেছেন যে, সুপারইনটেলিজেন্স বা অতি-বুদ্ধিমান সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার মতো কোনো কার্যকর পরিকল্পনা এখনো তাঁদের কাছে নেই। তারা যদিও পরিস্থিতি সামলানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন, তবে এখনো সঠিক পথে আছেন এমনটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

বর্তমানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের উন্নত করতে সক্ষম এমন এআই তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। কিন্তু গবেষকদের এই আশঙ্কা প্রযুক্তি বিশ্বে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এআই যখন মানুষের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে উঠবে, তখন তার নিয়ন্ত্রণ কতটুকু সম্ভব হবে—সেই মৌলিক প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তির এই অবিশ্বাস্য গতি মানবজাতির জন্য আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ, তা সময়ই বলে দেবে। তবে খোদ এআই নির্মাতাদের এমন উদ্বেগ পুরো প্রযুক্তি খাতকে এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করাল। এখন দেখার বিষয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এ বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.