আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবদিশা: ইতালির রাজধানী রোমে শুরু হয়েছে আধুনিক বিমূর্ত শিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ ভাসিলি ক্যান্ডিনস্কির এক বিশাল চিত্রপ্রদর্শনী। রোমের পলাজো বোনাপার্টে আয়োজিত এই প্রদর্শনীটি ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০২৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
রঙের মাঝে সুরের মূর্ছনা
ক্যান্ডিনস্কি মনে করতেন, একটি রং কেবল রঙের কোটায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা একটি সুরের মতো স্পন্দিত হতে পারে। তাঁর মতে, চিত্রকলা কেবল দেখার বিষয় নয়, তা শোনার এবং অনুভবেরও একটি মাধ্যম। দীর্ঘ পঁচিশ বছর পর রোমে আয়োজিত এই বিশেষ প্রদর্শনীতে শিল্পীর সাতটিরও বেশি কালজয়ী শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হচ্ছে।
এই শিল্পকর্মগুলো মূলত প্যারিসের বিখ্যাত ‘সেন্টার পম্পিডু’ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। মিউজিয়ামটির সংস্কার কাজের সুযোগে বিশ্বের শিল্পরসিকরা এখন রোমে ক্যান্ডিনস্কির সৃজনশীল যাত্রাকে নতুন আঙ্গিকে দেখার বিরল সুযোগ পাচ্ছেন। কিউরেটর অ্যাঞ্জেলা ল্যাম্পের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই প্রদর্শনীটি ক্যান্ডিনস্কির জীবন ও শিল্পের এক অনন্য দলিল।
বিংশ শতাব্দীর শিল্পের পটপরিবর্তন
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ইউরোপের সাংস্কৃতিক ও দার্শনিক পরিবর্তনের জোয়ারে ভাসিলি ক্যান্ডিনস্কি ছিলেন এক অগ্রগামী কণ্ঠস্বর। ক্লদ মনে-র ‘হেস্ট্যাক্স’ সিরিজের অনুপ্রেরণায় তিনি বাস্তব জগতের সীমানা ছাড়িয়ে রঙের স্বনির্ভরতায় বিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। তাঁর তুলির আঁচড়ে রঙের বিন্যাস হয়ে ওঠে এক একটি সুরের স্বরলিপি।
প্রদর্শনীটি দর্শকদের নিয়ে যায় সেই সময়ে, যখন ইউরোপীয় চিত্রকলা, সংগীত এবং সাহিত্য নতুন এক ভোরের অপেক্ষায় ছিল। ওয়াগনারের ‘টোটাল আর্ট’ বা শোনবার্গের টোনালিটিহীন সংগীতের মতোই ক্যান্ডিনস্কির ক্যানভাসে রঙের ব্যবহার প্রথাগত শিল্পের শৃঙ্খল ভেঙে দিয়েছিল। মস্কোতে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী রাশিয়ার আইন ও অর্থনীতির পাঠ চুকিয়ে কীভাবে বিমূর্ত শিল্পের জনক হলেন, তা এখানে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
প্রদর্শনীটি কেবল একটি গ্যালারি নয়, বরং বিংশ শতাব্দীর শিল্পবিপ্লবের এক জীবন্ত আখ্যান। যারা শিল্পের গভীর মনস্তত্ত্ব ও রঙের আধ্যাত্মিক শক্তি সম্পর্কে আগ্রহী, তাদের জন্য এটি একটি অবশ্য দর্শনীয় আয়োজন। ক্যান্ডিনস্কির এই সৃজনশীল মহাজাগতিক যাত্রা শিল্পপ্রেমীদের দীর্ঘ সময় ধরে মুগ্ধ করে রাখবে।

মন্তব্য করুন