খেলাধুলা ডেস্ক, নবদিশা: অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বর্তমান অধিনায়ক মিচেল মার্শ ক্যারিয়ারের ভিন্ন এক বাঁকের গল্প শুনিয়েছেন সবাইকে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আসন্ন ওডিআই সিরিজের আগে হারারেতে পা রেখে তিনি ফিরে গিয়েছেন নিজের শৈশবের দিনগুলোতে। মিচেলের বাবা জিওফ মার্শ যখন জিম্বাবুয়ে দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তখন তিন বছর সেখানে কাটিয়েছিলেন তারা।
শৈশবের জিম্বাবুয়ে ও আবেগী পুনর্মিলন
হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অনুশীলন করার সময় মিচেল মার্শের সাথে দেখা হয় ফারাই ‘হ্যাপি’ মাপোন্দেরার। প্রায় পঁচিশ বছর আগে মার্শ পরিবারের বাড়িতে কাজ করতেন মাপোন্দেরা। তাকে দেখার সাথে সাথেই অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরেন, যা উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে তোলে। মিচেল জানিয়েছেন, ওই সময় তিনি বাড়িতে না খেয়ে মাপোন্দেরার সাথেই দুপুরের খাবার খেতে পছন্দ করতেন।
স্মৃতিমেদুর মার্শের ক্রিকেটীয় জীবন
জিম্বাবুয়েতে কাটানো সময় শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কই নয়, মার্শের ক্রিকেটীয় ভিত্তি তৈরিতেও বড় ভূমিকা রেখেছিল। কারেন পরিবারের ছেলেদের সাথে—যাদের মধ্যে টম এবং স্যাম কারেন পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন—ঘণ্টার পর ঘণ্টা ক্রিকেট খেলতেন তিনি। সে সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মার্শ বলেন, জিম্বাবুয়ে তখন তার কাছে কেবল একটি দেশ ছিল না, ছিল আপন ঠিকানা।
আজকের অস্ট্রেলিয়ান দলনেতা যখন হারারেতে নামেন, তখন তার মনে পড়ে সেই অনাড়ম্বর দিনগুলোর কথা। শৈশবের সেই ভালোলাগা থেকে তার মনে গভীর ইচ্ছা জেগেছিল জিম্বাবুয়ে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানোর। যদিও ভাগ্যের লিখন ভিন্ন ছিল, তবুও হারারের মাটিতে পা রেখে তিনি যে উষ্ণতা পেয়েছেন, তা তার ক্যারিয়ারের অন্য যেকোনো অর্জনের চেয়ে কম নয়। জিওফ মার্শের কোচিংয়ের সময়কার সেই ছোট মিচেল আজ বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম বড় তারকা, কিন্তু জিম্বাবুয়ের স্মৃতি তার হৃদয়ে আজও অমলিন।

মন্তব্য করুন