অনলাইন ডেস্ক, নবদিশা: কক্সবাজার শহরের অদূরে অবস্থিত ইনানী জাতীয় উদ্যান দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যের এক গুরুত্বপূর্ণ আধার। সম্প্রতি এক নিবিড় গবেষণায় এই বনভূমিতে ২৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যা পরিবেশবিদদের নতুন করে আশাবাদী করে তুলেছে।
গবেষক বিপুল কৃষ্ণ দাস এই গবেষণায় ক্যামেরা ট্র্যাপ, লাইন ট্রানসেক্ট এবং সরাসরি স্পটিং পদ্ধতির সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন। তার পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে মেঘলা চিতা ও উল্লুকের মতো চরম সংকটাপন্ন প্রাণীর বিরল উপস্থিতির তথ্য। কেবল স্তন্যপায়ী প্রাণীই নয়, বরং সমগ্র বাস্তুতন্ত্রের বর্তমান অবস্থা নিরূপণেও কাজ করেছেন তিনি।
বাস্তুসংস্থানের সংকট ও সুরক্ষার দাবি
মানুষের ক্রমবর্ধমান কর্মকাণ্ড ও বন উজাড়ের ফলে বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য আজ বড় ধরনের হুমকির মুখে। অধ্যাপক মোহাম্মদ ফিরোজ জামান মনে করেন, ইনানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চলগুলো রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা ও বাজেট প্রয়োজন। তিনি জানান, জনবল সংকট ও প্রয়োজনীয় নজরদারির অভাব বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বনাঞ্চলের আশপাশের জনবসতি ও পরিবেশের ওপর মানুষের নেতিবাচক প্রভাব প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে অনেক বিরল প্রজাতি চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করাই এখন সময়ের দাবি।
ইনানী জাতীয় উদ্যানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা জরুরি। বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক চলাচলের পথ ও তাদের আবাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হবে। সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি গবেষণাধর্মী উদ্যোগগুলোর প্রতি সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোই এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

মন্তব্য করুন