আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবদিশা: যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। এর অংশ হিসেবে এইচ-১বিসহ বিভিন্ন কর্মসংস্থান-ভিত্তিক ভিসাধারীদের গ্রেস পিরিয়ড বা বাড়তি সময় কমিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপটি বাস্তবায়িত হলে চাকরি হারানো দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য দেশটিতে অবস্থান করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।
অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এইচ-১বি ভিসাধারীরা চাকরি পরিবর্তনের সময় বা কাজ হারানোর পর নতুন কর্মসংস্থান খোঁজার জন্য নির্দিষ্ট সময় পেয়ে থাকেন। প্রস্তাবিত নতুন নীতিতে এই সময়সীমা সংকুচিত করার কথা বলা হয়েছে। ফলে পেশাজীবীদের জন্য মার্কিন শ্রমবাজারে টিকে থাকার সুযোগ আগের চেয়ে অনেক সীমিত হবে।
শ্রমবাজার ও দক্ষ কর্মীর ওপর সম্ভাব্য প্রভাব
আইটি ও প্রযুক্তি খাতের হাজার হাজার বিদেশি কর্মী, বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর পেশাজীবীরা এই সিদ্ধান্তের ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, গ্রেস পিরিয়ড কমানোর ফলে দক্ষ জনশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো মেধা ধরে রাখতে বাধার সম্মুখীন হবে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, দেশীয় কর্মীদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করাই এই কঠোর নীতির মূল লক্ষ্য।
প্রস্তাবিত এই পরিবর্তনগুলো কেবল ভিসানীতির সংশোধন নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী অভিবাসন কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এই বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত পর্যালোচনা চালাচ্ছে। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে মার্কিন ভিসা ব্যবস্থার ইতিহাসে এটি একটি বড় সংযোজন হিসেবে গণ্য হবে। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিশেষত প্রযুক্তি খাতের কর্মীদের কাছে এটি এখন উদ্বেগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্তব্য করুন