অনলাইন ডেস্ক, নবদিশা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে তীব্র অসন্তোষ ও প্রতিবাদের ঢেউ উঠেছে। বিতর্কিত এই ছবি স্থাপনের পরপরই সাধারণ শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে এর কড়া সমালোচনা করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
ছবি ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত ক্যাম্পাস
সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার ডাকসু সংগ্রহশালায় প্রবেশ করে জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলেন। ভাষাসংগ্রামী ও ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে ছাত্রছাত্রীদের ওপর নির্যাতনের নির্দেশদাতা হিসেবে জিন্নাহকে দায়ী করেন তিনি। তার এই প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে নতুন করে আলোচনা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রোববার রাত থেকেই তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। ছবি স্থাপনের প্রতিবাদে ছাত্র ফেডারেশনসহ বিভিন্ন সংগঠন পাল্টা প্রতিকী প্রতিবাদ হিসেবে সংগ্রহশালায় অন্য ছবিও টানিয়ে দিয়েছে। এদিকে ছাত্রদল এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘটনাকে ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেছে।
প্রশাসনের তদন্ত ও সামগ্রিক বিতর্ক
দিনভর অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংস্কার পরবর্তী ডাকসু সংগ্রহশালায় ঐতিহাসিক দলিল ও আলোকচিত্রের পাশাপাশি জিন্নাহর বিতর্কিত ছবি রাখাকে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ দাবি করেছেন, জিন্নাহর বাংলা ভাষাবিরোধী অবস্থান স্পষ্ট করতেই ছবিগুলোর নিচে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হয়েছিল। তবে শিক্ষার্থীদের একাংশ মনে করছেন, দেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল স্মারক বাদ দিয়ে এভাবে জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন করা অনভিপ্রেত। এখন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনই নির্ধারণ করবে সংগ্রহশালায় ঐতিহ্যের ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা হবে।

মন্তব্য করুন