বাণিজ্য ডেস্ক, নবদিশা: নতুন পে-স্কেল ঘোষণার মধ্য দিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। তবে এই বেতন বৃদ্ধি একদিকে যেমন নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতা ফিরিয়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য তৈরি করেছে এক গভীর উদ্বেগ। দেশের শ্রমবাজার এখন যেন এক অদ্ভুত অর্থনৈতিক মেরুকরণের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।
বেতন বৃদ্ধি ও বাস্তবতার ফারাক
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, দেশে মজুরি বৃদ্ধির হারের চেয়ে মূল্যস্ফীতির হার গত কয়েক বছর ধরেই ঊর্ধ্বমুখী। দীর্ঘ চার বছর ধরে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় সংকুচিত হয়ে আসছে। সরকারি বেতন কাঠামোয় উল্লম্ফন ঘটলেও সাধারণ কর্মজীবী মানুষের আয়ের উৎস সেই হারে বাড়েনি। ফলে দেশের অর্থনীতিতে অভিজাত ও সাধারণ মানুষের মধ্যকার বৈষম্য আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।
১৯৭৩ সালের প্রেক্ষাপটে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সরকারি বেতনের ব্যবধান যে হারে বেড়েছে, তা জিডিপি বৃদ্ধির হারের তুলনায় অনেক বেশি। অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি এই বেতন সমন্বয় যৌক্তিক হলেও সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতির চাপে সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান আজ হুমকির মুখে। জিডিপি ও মাথাপিছু আয় যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতা সে তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে।
অসম সুযোগের সামাজিক প্রভাব
গ্রেডভিত্তিক বেতন বৈষম্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি এলেও মধ্যবিত্তের জন্য পরিস্থিতি ভিন্ন। সবচেয়ে বেশি বেতন বেড়েছে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের, যা মুদ্রাস্ফীতির নিরিখে একটি জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত। তবে এই বিশাল অংকের অর্থের যোগান দিতে সাধারণ করদাতাদের ওপর যে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, তা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
সরকারি যুক্তি হলো, দীর্ঘদিনের বকেয়া মূল্যস্ফীতির সমন্বয়ই এই বেতন কাঠামো। কিন্তু এই অজুহাত সাধারণ মানুষের খাদ্যপণ্যের ক্রমবর্ধমান দামের চাপের সমাধান দিতে পারছে না। ফলে নতুন এই পে-স্কেল সরকারি দপ্তরে স্বস্তি বয়ে আনলেও জাতীয় অর্থনীতির ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এখন কেবল বেতন বৃদ্ধিই যথেষ্ট নয়, বরং পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

মন্তব্য করুন