📅 সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬  |  ২০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নবোদিশা সত্য ও ন্যায়ের সাথে প্রতিদিন
বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

ভারত থেকে ইলিশ আমদানি: ঘোষিত মূল্যে গরমিল ও শুল্ক জালিয়াতির অভিযোগ

ভারত থেকে ইলিশ আমদানি: ঘোষিত মূল্যে গরমিল ও শুল্ক জালিয়াতির অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবদিশা: প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আমদানির বিষয়টি গত কয়েক মাসে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত বছরের জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই আমদানির ধারায় চলতি বছরের প্রথম সাড়ে ৯ মাসে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ কেজি মাছ ভারত থেকে এসেছে। তবে আমদানিকৃত এই মাছের ঘোষিত মূল্য ও প্রকৃত বাজার দরের ব্যাপক ব্যবধান নজর কেড়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।

অস্বাভাবিক কম দামে এলসি ও আমদানি

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে ৭ হাজার ৭২৩ কেজি ইলিশ আমদানির ঘোষণা দিয়েছে কেজিপ্রতি মাত্র ৫৭ টাকা মূল্যে। অথচ একই মাছ দেশের অভ্যন্তরীণ খুচরা বাজারে দেড় হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, গুজরাটের ভারুচ অঞ্চলের নর্মদা মোহনায় ধরা এসব ইলিশের গুণমান বাংলাদেশের পদ্মা-মেঘনার ইলিশের তুলনায় অনেক নিম্নমানের।

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধাররা দাবি করছেন, পরিবহন ও শুল্ক-কর মিলে প্রতি কেজি ইলিশের পেছনে প্রায় ৫০০ টাকা খরচ হলেও বাজারে তার প্রতিফলন ঘটছে না। অনেক ক্ষেত্রে আমদানিকৃত মাছের ডিম আলাদা করে ফেলার কারণে মাছের স্বাদ ও ওজন কমে যাচ্ছে। গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন থাকায় অনেক ব্যবসায়ী এ ধরনের আমদানি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

রপ্তানি ও আমদানির ভারসাম্যহীন চিত্র

একসময় বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানিই ছিল মূল চর্চা, তবে গত দুই বছরে সেই চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। গত অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে সোয়া লাখ কেজি ইলিশ রপ্তানি হলেও ভারত ও মিয়ানমার থেকে আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ১০ লাখ ৬২ হাজার কেজি। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে কোনো ইলিশ রপ্তানি না হলেও ভারত থেকে আমদানি অব্যাহত রয়েছে।

এই বাণিজ্যিক পালাবদলের পেছনে মূল কারণ হিসেবে বাংলাদেশের নদ-নদীতে ইলিশের আকালকে চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা। পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়ীরা পূজার আগে পুনরায় বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানির আবেদন জানালেও, স্থানীয় সরবরাহ সংকটের কারণে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আমদানিকৃত মাছের ঘোষিত মূল্যে কারসাজি বা রাজস্ব ফাঁকির কোনো বিষয় আছে কি না, তা নিয়ে এখন এনবিআর কর্মকর্তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের দাবি উঠেছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.