আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবদিশা: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা এবং জ্বালানি সংকটের মুখে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্তের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে যোগদানের প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার কথা জানিয়েছে ঢাকা। তবে যেকোনো সামরিক বা কৌশলগত জোটে অংশগ্রহণের আগে জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রাথমিক দায়িত্ব।
দরকষাকষিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা
বর্তমানে সৌদি আরবসহ জিসিসিভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক রেমিট্যান্স আসে এবং বিপুল সংখ্যক শ্রমিক সেখানে কর্মরত। সৌদি নেতৃত্বাধীন এই জোটের সম্প্রসারণ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের উপস্থিতি দেশটিকে একটি নতুন রাজনৈতিক দরকষাকষির সুযোগ করে দিচ্ছে। চুক্তির কালির কালচে হওয়ার আগেই অভিবাসন সুরক্ষা ও বিনিয়োগের নিশ্চয়তা আদায় করা সম্ভব।
চুক্তির প্রথম শর্ত হিসেবে বাংলাদেশের অভিবাসী কর্মীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরবের উন্নয়ন প্রকল্প সংকুচিত হওয়ায় বাংলাদেশী কর্মীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। শ্রমবাজারের এই অনিশ্চয়তা কাটাতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির পাশাপাশি নির্দিষ্ট কোটা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
দক্ষতা উন্নয়নে নতুন পথ
কেবল কায়িক শ্রমের ওপর নির্ভরশীল না থেকে, বাংলাদেশের উচিত সৌদি আরবের সঙ্গে ডিজিটাল ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিনিময়ের প্রস্তাব রাখা। দেশটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আইটি খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা মেটাতে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। প্রশিক্ষণের ব্যয়ভার এবং সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া সহজতর করার মাধ্যমে বাংলাদেশী কর্মীদের উচ্চতর পেশায় পদায়ন সম্ভব।
চুক্তিটি কেবল সামরিক সহযোগিতার গণ্ডিতে আবদ্ধ না রেখে একে অর্থনৈতিক কূটনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। সৌদি আরবের সাথে গভীর সম্পর্কের এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের নিশ্চয়তা আদায়ে সরকারকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। সঠিক পরিকল্পনায় এই জোট হতে পারে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির এক নতুন সোপান।

মন্তব্য করুন