📅 সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬  |  ২০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নবোদিশা সত্য ও ন্যায়ের সাথে প্রতিদিন
বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

নিঝুম হচ্ছে বঙ্গোপসাগর: মাছের মজুত কমায় সংকটে উপকূলের জেলেরা

নিঝুম হচ্ছে বঙ্গোপসাগর: মাছের মজুত কমায় সংকটে উপকূলের জেলেরা

অনলাইন ডেস্ক, নবদিশা: বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশি থেকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে মাছের প্রাচুর্য। গত কয়েক বছরে অপরিকল্পিত মৎস্য আহরণ এবং ক্ষতিকর জাল ব্যবহারের ফলে সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ইলিশসহ অন্যান্য প্রজাতির ওপর। এই সংকট উপকূলীয় জনপদগুলোতে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

উৎসে টান ও জেলের জীবিকার সংকট

সাগর থেকে পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো জেলের সংসার অচল হয়ে পড়ছে। জাল ফেলে যে পরিমাণ মাছ মিলছে, তাতে ট্রলারের জ্বালানি খরচ ও আনুষঙ্গিক ব্যয় বহন করাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আলীপুরের মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে কথা হয় ট্রলার মালিক মিজান হোসেনের সঙ্গে, যিনি জানান গত বছরের তুলনায় এবার আহরণ কমেছে অন্তত ৪০ শতাংশ।

এই বিপর্যয়ের পেছনে অবৈধ ট্রলিং ও কারেন্ট জালের বেপরোয়া ব্যবহারকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। ট্রলিং জালে ছোট-বড় নির্বিশেষে সব মাছ ধরা পড়ায় মাছের বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কুয়াকাটার মহিপুর মৎস্যজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ফজলু গাজী জানান, অগ্রিম ঋণ নিয়ে যারা সাগরে পাড়ি দিচ্ছেন, তারা এখন পাওনাদারের টাকা পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন।

মৎস্য কর্মকর্তাদের শঙ্কা ও পরিসংখ্যান

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় নন্দী সামগ্রিক পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর উপকূলীয় এলাকায় সামগ্রিকভাবে মাছ আহরণের পরিমাণ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমেছে। শুধুমাত্র ইলিশ নয়, সমুদ্রের অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের মজুতও এখন তলানির দিকে।

এই মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এখনই যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতা প্রয়োজন। সামুদ্রিক আবাসস্থল ধ্বংস রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে নিকট ভবিষ্যতে উপকূলীয় অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রাকৃতিক এই সম্পদ রক্ষায় কঠোর আইন প্রয়োগ এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়টি এখন সময়ের দাবি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.