খেলাধুলা ডেস্ক, নবদিশা: ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চ ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মুখোমুখি হয়েছিল গ্রিক ফুটবলের অন্যতম শীর্ষ দল এইকে এথেন্স এবং অস্ট্রিয়ার পরাশক্তি এলএএসকে। ঐতিহাসিক এথেন্স শহরে আয়োজিত এই ম্যাচে জয় পেতে মরিয়া ছিল উভয় পক্ষই। ঘরের মাঠের দর্শক ও আবহাওয়াকে কাজে লাগিয়ে স্বাগতিকরা ম্যাচের শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টির কৌশল গ্রহণ করে।
তবে সফরকারী ক্লাব এলএএসকে প্রতিপক্ষের কৌশল নস্যাৎ করতে সুসংগঠিত রক্ষণ ও দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণের ওপর নির্ভর করে। ফলে প্রথম বাঁশি বাজার পর থেকেই মাঠের প্রতিটি ইঞ্চির জন্য দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শুরু হয়। মধ্যমাঠের দখল রাখা এবং আক্রমণ সচল রাখার ক্ষেত্রে দুই দলের শারীরিক ও কৌশলগত দ্বৈরথ ছিল দেখার মতো।
তারকা ফুটবলারদের দ্বৈরথ ও মাঠের উত্তেজনা
ম্যাচে এথেন্সের সার্বিয়ান ফরোয়ার্ড লুকা জভিচ এবং এলএএসকে-র তরুণ ডাচ ডিফেন্ডার মেলাইরো বোগার্ডের মধ্যকার মুখোমুখি প্রতিরোধ ছিল দর্শকদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু। বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে জভিচ যেমন নিজের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করেছেন, তেমনই বোগার্ড শারীরিক সক্ষমতা ও নিখুঁত টাইমিং দিয়ে তা নস্যাৎ করার চেষ্টা চালান। এই যৌথ প্রতিদ্বন্দ্বিতা পুরো ম্যাচের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।
স্বাগতিক এথেন্স উইং ব্যবহার করে বেশ কয়েকটি নজরকাড়া আক্রমণ পরিচালনা করে। কিন্তু এলএএসকে-র রক্ষণে প্রতিবারের মতোই বাধা হয়ে দাঁড়ান বোগার্ড ও তাঁর সতীর্থরা। বিশেষ করে বলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ক্ষেত্রে বোগার্ডের নির্ভুল পজিশনিং প্রতিপক্ষের গোল করার একাধিক প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করে দেয়।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সমীকরণ ও পরবর্তী চ্যালেঞ্জ
ইউরোপীয় টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে টিকে থাকার জন্য পয়েন্ট হারানোর সুযোগ একেবারেই সামান্য। এলএএসকে দল হিসেবে যেমন নিজেদের শৃঙ্খলাবদ্ধ পারফরম্যান্স ধরে রেখেছে, তেমনই এইকে এথেন্সও টানা আক্রমণ চালিয়ে জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে। ফলে এই ম্যাচের প্রতি মুহূর্তের কঠিন লড়াই সমর্থকদের দারুণভাবে রোমাঞ্চিত করে।
দুই দলের জন্যই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পরবর্তী রাউন্ডের পথ অতিক্রম করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে। এথেন্সে অনুষ্ঠিত এই কঠিন ম্যাচের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরবর্তী মুখোমুখি লড়াইয়ে দল দুটি কীভাবে কৌশল সাজায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

মন্তব্য করুন