আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবদিশা: সামরিক প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে বদ্ধপরিকর চীন। সম্প্রতি দেশটির পক্ষ থেকে উন্নত প্রযুক্তির আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল বা ইউএভি তৈরির কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই নতুন প্রজন্মের ড্রোনগুলো মূলত গোয়েন্দা নজরদারি এবং কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডিজাইন করা হয়েছে।
ড্রোন প্রযুক্তিতে চীনের আধিপত্য
নতুন উদ্ভাবিত ডব্লিউজেড-এক্স (WZ-X) সিরিজের ড্রোনগুলো যুক্তরাষ্ট্রের আরকিউ-১৮০ মডেলের অনুরূপ ভূমিকা পালনে সক্ষম। দীর্ঘ পাল্লার গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রতিকূল পরিবেশে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে এই ড্রোনগুলো চীনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন শক্তির সংযোজন করবে। আধুনিক রাডারে ধরা না পড়ার প্রযুক্তিতেও এই ড্রোনগুলো বিশেষ পারদর্শিতা প্রদর্শন করছে বলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষকদের তথ্য।
বিশ্বের অন্যান্য শক্তিশালী দেশগুলোও একই ধারায় নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে। লকহিড মার্টিন বর্তমানে তাদের নতুন প্রজন্মের চালকবিহীন যুদ্ধবিমানের এসেম্বলি সম্পন্ন করছে, যা বিশ্বজুড়ে সামরিক সক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আনতে পারে। একই সাথে জেনারেল অ্যাটমিকসের এফকিউ-৪২ ‘ভেঞ্জেন্স’ এবং অ্যান্ডুরিলের এফকিউ-৪৪ ‘ফিউরি’ মডেলগুলো আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বড় পরিসরে মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ২০৩২ সালের মধ্যে ৫০০টি ড্রোন যুদ্ধের ময়দানে নামানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো।
চীনের এই ক্রমাগত অগ্রগতি বিশ্বজুড়ে সামরিক প্রযুক্তির সমীকরণকে নতুন রূপ দিচ্ছে। শুধু সংখ্যা নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং স্বায়ত্তশাসিত উড্ডয়ন সক্ষমতার প্রয়োগ যুদ্ধক্ষেত্রে বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ড্রোন প্রযুক্তির এই আকাশছোঁয়া প্রতিযোগিতা আগামী দিনে বিশ্ব নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটকে আরও জটিল করে তুলবে। দেশগুলোর পক্ষ থেকে গৃহীত এই উদ্যোগসমূহ তাদের নিজেদের সামরিক সক্ষমতার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মন্তব্য করুন