আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবদিশা: ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে নতুন শিক্ষা নীতি প্রবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি। বর্তমান প্রজন্মের গণ্ডি পেরিয়ে ‘জেন আলফা’ এবং ‘জেন বিটা’ প্রজন্মের কথা মাথায় রেখেই এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। গুণগত শিক্ষা ও কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনই এই নতুন নীতির মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
গুণগত মান ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার প্রসারে জোর
সাম্প্রতিক এক রাজ্যব্যাপী জাতিগত জরিপ থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, সামাজিক পশ্চাৎপদতার পেছনে সম্পত্তির অভাবের চেয়ে শিক্ষার সুযোগের অভাবই প্রধান কারণ। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রী নতুন শিক্ষা নীতিতে যুগোপযোগী পরিবর্তনের ওপর আলোকপাত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিশ্ব প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর বিকল্প নেই।
ইতিমধ্যেই তেলেঙ্গানা সরকার একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেছে, যার লক্ষ্য হলো নতুন নীতির খসড়া তৈরি করা। এই খসড়া পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কে কেশব রাওয়ের নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষ কমিটিকে। আইনপ্রণেতা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মতামতকেও এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বাজেট বৃদ্ধি ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া
শিক্ষার প্রসারে বাজেটের ১৫ শতাংশ বরাদ্দ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে রাজ্য সরকার। গত তিন বছরে শিক্ষা দপ্তরে বরাদ্দের পরিমাণ ৭,৫৫৪ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সরকারের অগ্রাধিকারকেই নির্দেশ করে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, দায়িত্ব গ্রহণের ৫৫ দিনের মধ্যে ১০,০০৬টি শিক্ষক পদ স্বচ্ছভাবে পূরণ করা হয়েছে।
সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮৬ হাজার বৃদ্ধি পাওয়া সরকারের শিক্ষা নীতির সফলতার প্রতিফলন। পূর্ণকালীন শিক্ষামন্ত্রীর অনুপস্থিতি নিয়ে সমালোচনার জবাবে রেবন্ত রেড্ডি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিজের অধীনে রাখার অর্থই হলো এই খাতের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। তিনি মনে করেন, সরাসরি তদারকির মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার করা সম্ভব।

মন্তব্য করুন