📅 শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬  |  ২০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নবোদিশা সত্য ও ন্যায়ের সাথে প্রতিদিন
বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

দিল্লির সত্য নিকেতনে ভবন ধস: গুজব ও অপপ্রচারে সয়লাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

দিল্লির সত্য নিকেতনে ভবন ধস: গুজব ও অপপ্রচারে সয়লাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবদিশা: সম্প্রতি ভারতের রাজধানী দিল্লির সত্য নিকেতনে একটি ভবন ধসে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচুর বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার ভয়াবহতাকে পুঁজি করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পুরনো ভিডিও এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি কনটেন্ট প্রচার করছে বিভিন্ন মহল।

গুজব ও বিভ্রান্তির ময়নাতদন্ত

দিল্লির সত্য নিকেতনে ভবন ধসের পর ইন্টারনেটে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়, যেখানে একটি ভবনকে মাটিতে তলিয়ে যেতে দেখা যায়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই ভিডিওটি দিল্লির নয়, বরং ৫ সেপ্টেম্বর উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদে ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবনের। একইভাবে, ২০১৭ সালে দিল্লির জাসোলায় নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে ভবন ভাঙার একটি পুরনো ভিডিওকেও বর্তমান ঘটনার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে।

প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সতর্কবার্তা

অপপ্রচারের তালিকায় শুধু ভবন ধসের ভিডিওই নয়, বরং এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি ভিডিওচিত্রও রয়েছে। একটি ভাইরাল ক্লিপে দেখা যায়, একটি বাছুর ভ্যানে থাকা গরুর পোস্টার থেকে দুধ পান করছে, যা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। অথচ এই ভিডিওটি প্রকৃত ফুটেজ হিসেবে প্রচার করেছে খোদ মূলধারার সংবাদমাধ্যম ডেকান ক্রনিকল।

তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে খবরের সত্যতা যাচাই না করে শেয়ার করার প্রবণতা জনমনে চরম বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। বিহারে গণ্ডক ব্যারেজ প্রকল্প নিয়ে ছড়ানো ভিডিওটিও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হওয়া তথ্যের পেছনে থাকা উৎস সম্পর্কে সাধারণ ব্যবহারকারীদের অধিকতর সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রচার একদিকে যেমন ভুক্তভোগীদের পরিবারের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করে, তেমনি ডিজিটাল নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রাও বাড়িয়ে দেয়। যাচাই না করে তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকাই এখন সময়ের দাবি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.