খেলাধুলা ডেস্ক, নবদিশা: ইংল্যান্ডের এজবাস্টন টেস্টের তৃতীয় দিনটি হয়ে রইল তরুণ পাকিস্তানি অলরাউন্ডার রাজাউল্লাহর। মাত্র আটটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে মাঠে নেমে তিনি যেভাবে ইংলিশ বোলিং লাইনআপকে ধসিয়ে দিলেন, তা ছিল অভাবনীয়। পাকিস্তানের এই নতুন তারকা যেন একাই বদলে দিলেন টেস্টের সমীকরণ।
রাজবল ঝড়ে দিশেহারা ইংল্যান্ড
মূলত বোলার হিসেবে দলে ডাক পাওয়া ২১ বছর বয়সী রাজাউল্লাহ ৯ নম্বর অবস্থানে ব্যাট করতে নেমে খেললেন ৬৩ বলে ৮১ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস। তার এই মারমুখী ব্যাটিংকেই এখন ক্রিকেটবিশ্ব অভিহিত করছে ‘রাজবল’ হিসেবে। ইংল্যান্ডের বোলাররা শুরুতেই তাকে সামলাতে ব্যর্থ হন, যা মাঠে উপস্থিত দর্শকদের উপহার দেয় এক অনন্য বিনোদন।
শহীদ আফ্রিদি কিংবা আব্দুল রাজ্জাকের মতো আগ্রাসী মেজাজের প্রতিফলন দেখা গেল রাজাউল্লাহর ব্যাটে। মাঠের চারদিকে ফ্ল্যামবয়েন্ট সব শটে তিনি ইংল্যান্ডের আক্রমণকে রীতিমতো নাস্তানাবুদ করে ছাড়েন। তার এই অদম্য সাহসিকতা শুধু পাকিস্তান সমর্থকদের উচ্ছ্বসিতই করেনি, বরং টেস্ট ক্রিকেটের উত্তাপও বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ।
সিরিজের শেষ টেস্টে পাকিস্তান দলে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছিল, যার ফলস্বরূপ রাজাউল্লাহর অভিষেক ঘটে। ওয়াকার ইউনিসের মতো পেস বোলার হিসেবে খ্যাতি থাকলেও তার ব্যাটিং দক্ষতা এখন আলোচনার প্রধান বিষয়। এজবাস্টনের এই ম্যাচে তিনি কেবল ব্যাট হাতেই উজ্জ্বল ছিলেন না, বরং তার এই ইনিংসটি তাকে পাকিস্তান ক্রিকেটের নতুন আশার আলোয় পরিণত করেছে।
ইংল্যান্ডের বাসবল কৌশলের বিপরীতে রাজবল কি ক্রিকেটবিশ্বে নতুন কোনো ট্রেন্ড সেট করতে যাচ্ছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্লেষণ। রাজাউল্লাহর এই বীরত্বপূর্ণ ইনিংস নিশ্চিতভাবেই তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেবে। চতুর্থ দিনে পাকিস্তান এখন বাড়তি আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মন্তব্য করুন