আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবদিশা: নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের মূল সুর ছিল পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করা। তবে এবারের আয়োজনে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ নিয়ে কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা না থাকাটা ছিল উল্লেখযোগ্য অনুপস্থিতি। জোটটির ১১ সদস্য ও ১০ অংশীদার দেশ বর্তমান এই সংকটে সরাসরি প্রভাবিত হওয়া সত্ত্বেও, ঘোষণাপত্রে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।
কূটনৈতিক ঐকমত্যের অভাব
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর বার্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে এই উদীয়মান শক্তি। মূলত সদস্য দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ ভিন্নমত এবং কৌশলগত স্বার্থের সংঘর্ষই এই স্থবিরতার মূল কারণ। ইরানের প্রত্যাশা ছিল জোটটি মার্কিন সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলুক, কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কিছু দেশ এতে ঘোর আপত্তি জানায়।
সম্মেলনের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব বিশ্লেষণে স্পষ্ট যে, ব্রিকসের সম্প্রসারণ একদিকে যেমন বিশ্বমঞ্চে তাদের অংশগ্রহণ বাড়িয়েছে, তেমনি জোটের ভেতরে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকেও আমদানি করেছে। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো একই ছাতার নিচে থাকলেও, তাদের ভূ-রাজনৈতিক হিসাবনিকাশ সম্পূর্ণ বিপরীত। ফলে একটি শক্তিশালী ও একক ‘ভূ-রাজনৈতিক অস্ত্র’ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে ব্রিকস এখন কেবলই মতপার্থক্য ব্যবস্থাপনার একটি মঞ্চে পরিণত হয়েছে।
পরিশেষে, পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত বিশ্বব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার লক্ষ্য নিয়ে ব্রিকসের যাত্রা শুরু হলেও, ওয়াশিংটনের বিষয়ে একটি অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছানো তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নিজস্ব অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের ভিন্নতা এই জোটের সীমাবদ্ধতাকে প্রকট করে তুলেছে। আগামী দিনগুলোতে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণের জন্য ব্রিকসকে এই দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে উঠতে হবে, নতুবা তাদের প্রভাব কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।

মন্তব্য করুন