অনলাইন ডেস্ক, নবদিশা: যশোরের বাজারগুলোতে ভারত থেকে আমদানিকৃত ইলিশ মাছ কৌশলে ‘বরিশালের ইলিশ’ হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, বিদেশি মাছের দেশি ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে অধিক মুনাফা লুটছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা।
প্রতারণার শিকার ক্রেতারা
যশোরের বড়বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায়। ক্রেতারা বলছেন, এসব মাছের আকার ও স্বাদে দেশি ইলিশের সতেজতা পাওয়া যাচ্ছে না, বরং মাছগুলো ডিম ও চর্বিতে ভরা যা মূলত আমদানি করা মাছের বৈশিষ্ট্য।
শেখ আবদুল্লাহ হোসাইন নামের এক ক্রেতা জানান, নদীর টাটকা ইলিশের আশায় দাম বেশি দিয়ে কিনলেও শেষ পর্যন্ত ভারতীয় হিমায়িত মাছই ক্রেতাদের গছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী, বাজারে আসা অধিকাংশ মাছের ক্ষেত্রেই এমন প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে।
আমদানি ও বাণিজ্যের অস্পষ্টতা
যশোর জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে ভারত থেকে প্রায় ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪৮৪ কেজি ইলিশ আমদানি করা হয়েছে। এর পেছনে ১৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জড়িত থাকলেও, আমদানিকৃত মাছের গুণমান ও উৎস নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে।
মৎস্য বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, আমদানিকৃত এই মাছ আসলেই ভারতের সমুদ্রের কি না বা অন্য কোনো দেশ থেকে এসেছে কি না, তা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। প্রশাসনিক তদারকি জোরদার না করলে স্থানীয় ইলিশের বাজার ও সুনাম উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মন্তব্য করুন