📅 শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬  |  ২০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নবোদিশা সত্য ও ন্যায়ের সাথে প্রতিদিন
বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

ইন্দোনেশিয়ায় সরকারি বিনামূল্যের খাবারে অসুস্থ দুই হাজার শিক্ষার্থী

ইন্দোনেশিয়ায় সরকারি বিনামূল্যের খাবারে অসুস্থ দুই হাজার শিক্ষার্থী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবোদিশা: ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তোর স্বপ্নের প্রকল্প ‘মাকান বেরগিজি গ্রাতিস’ বা বিনামূল্যে পুষ্টিকর খাবার কর্মসূচি বড় ধরনের ধাক্কা খেল। দেশটির বিভিন্ন স্কুলে সরবরাহ করা খাবার খেয়ে অন্তত দুই হাজার শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সরকারি এই উদ্যোগের স্বচ্ছতা ও গুণমান নিয়ে এখন জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

সংকট ও সরকারি প্রতিক্রিয়া

সেন্ট্রাল জাভার লেসমের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে বুধবার দুপুরের খাবার খাওয়ার পর ৭৫০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থদের মধ্যে কয়েকজনকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়, যেখানে অনেকের অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক ছিল। এর আগে ইস্ট জাভার একটি বোর্ডিং স্কুলেও একই ধরনের খাবার খেয়ে ৭৩০ জন অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল।

প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তোর এই উচ্চাভিলাষী কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল ইন্দোনেশিয়ার শিক্ষার্থীদের পুষ্টির মান উন্নয়ন করা। তবে প্রকল্পের শুরু থেকেই দুর্নীতির অভিযোগ এবং বিশাল বাজেটের সঠিক ব্যবহার নিয়ে সমালোচকরা সরব ছিলেন। বর্তমান গণ-খাদ্য বিষক্রিয়ার ঘটনা এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যয় সরকার বহন করবে এবং স্থানীয় খাদ্য সরবরাহকারীরা দায়িত্ব স্বীকার করেছেন। তবে শুধু ক্ষতিপূরণ দিয়ে এই সংকট কাটানো সম্ভব কি না, তা নিয়ে স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। সাউথ সুলাওয়েসির তানাতোরাজা এলাকাতেও একই সপ্তাহে কয়েক শ শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় প্রশাসন উদ্বিগ্ন।

বিতর্কের মুখে জনকল্যাণমুখী প্রকল্প

এই কর্মসূচির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ যে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, তা এখন স্পষ্ট। অধিকাংশ শিক্ষার্থী তীব্র মাথাব্যথা, বমি ও শারীরিক দুর্বলতা অনুভব করায় স্কুলগুলো বাধ্য হয়েই পাঠদান স্থগিত করেছে। শত শত শিক্ষার্থীকে চাকার চেয়ারে করে হাসপাতালে নিতে দেখা গেছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় তুলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত এই বিশাল কর্মযজ্ঞে নজরদারির অভাব প্রকট। এখন প্রশ্ন উঠছে, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পুষ্টি যোগাতে গিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করা এই প্রকল্প কি আদৌ টেকসই? সরকার যদি দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তবে এই কর্মসূচির ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে পড়বে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.