আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবদিশা:
আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক অদ্ভুত ও প্রাণঘাতী গুজবে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কোনো অপরিচিত ব্যক্তির স্পর্শে পুরুষের গোপনাঙ্গ অদৃশ্য বা ছোট হয়ে যাচ্ছে—এমন ভিত্তিহীন দাবির জেরে একের পর এক গণপিটুনির ঘটনা ঘটছে। এই অন্ধবিশ্বাসকে পুঁজি করে উসকে দেওয়া সহিংসতায় প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়াচ্ছে অন্ধবিশ্বাসের বিষ
দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ডাইনিবিদ্যা ও কুসংস্কারের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটে এই ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মূলত কঙ্গো থেকে শুরু হওয়া এই গুজব জ্যাম্বিয়া, তাঞ্জানিয়া, কেনিয়া ও মোজাম্বিকের মতো দেশগুলোতে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা এই কুসংস্কারকে দ্রুত সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
তাঞ্জানিয়ার তুন্দুমা সীমান্তের কাছে এমপেম্বা এলাকার মেকানিক এমগালা তার জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে আঁতকে ওঠেন। গত ১ এপ্রিল এক বন্ধুর সঙ্গে রেস্তোরাঁয় খাওয়ার সময় হঠাৎ এক উন্মত্ত জনতা তাদের টেনে হিঁচড়ে বাইরে বের করে আনে। কোনো কারণ ছাড়াই তাদের ওপর চালানো হয় নৃশংস হামলা, যেখানে এমগালা তার বন্ধুকে হারান এবং নিজেও মারাত্মকভাবে জখম হন।
হাসপাতালে দুই দিন অচেতন থাকার পর তিনি জানতে পারেন, তার বন্ধু গণপিটুনির শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। এমগালার শরীরের বিভিন্ন অংশে সেই হামলার ক্ষত আজও স্পষ্ট, যা এই নিষ্ঠুর গুজবের ভয়াবহতাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। অভিযোগ ছিল, তিনি নাকি কারো গোপনাঙ্গ স্পর্শ করে তা অদৃশ্য করে দিয়েছেন, যা পুরোপুরি অবান্তর।
এই সহিংসতা কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং সচেতনতার অভাব ও সামাজিক অস্থিরতার এক করুণ বহিঃপ্রকাশ। গুজব রটনাকারীরা প্রতিনিয়ত তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার করে মানুষের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয়তা সত্ত্বেও এই কুসংস্কার মোকাবিলা করা বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্তব্য করুন