📅 শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬  |  ২০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নবোদিশা সত্য ও ন্যায়ের সাথে প্রতিদিন
বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

জলবিদ্যুতে বাজি নেপাল: বন্যার ভয়াল থাবায় অনিশ্চিত ভবিষ্যতের হাতছানি

জলবিদ্যুতে বাজি নেপাল: বন্যার ভয়াল থাবায় অনিশ্চিত ভবিষ্যতের হাতছানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবোদিশা: নেপালের অর্থনীতির অন্যতম মেরুদণ্ড হলো জলবিদ্যুৎ। হিমালয়কন্যা দেশটি তাদের প্রাকৃতিক জলধারাকে কাজে লাগিয়ে শুধু স্বয়ংসম্পূর্ণই হয়নি, বরং ভারত ও বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি করে প্রতি বছর বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। তবে সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যা দেশটির এই উচ্চাভিলাষী খাতের দুর্বল দিকগুলো প্রকাশ্যে এনেছে।

গত বুধবার নেপালে আঘাত হানা ভয়াবহ বন্যায় তেরো শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রিসূলী নদী অববাহিকার অন্তত ১২টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে নেপালের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার দশ শতাংশের বেশি এখন অকেজো হয়ে পড়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের অশুভ ছায়া

নেপালের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। অপারেটররা নিশ্চিত নন যে, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে কি না। একদিকে হিমবাহ ও পর্বতের ক্ষয়, অন্যদিকে ঘনঘন দুর্যোগের ফলে জলবিদ্যুৎ নির্ভরতা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এক সময় লোডশেডিংয়ে জর্জরিত নেপাল ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ খাতে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের অশুভ ছায়া তাদের সেই সাফল্যকে ম্লান করে দিচ্ছে। নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির মুখপাত্র রাজন ঢাকাল স্বীকার করেছেন যে, দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি তাদের বর্তমান জলবিদ্যুৎ নীতি পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ছাড়া হিমালয়কেন্দ্রিক এই বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো স্থায়ী সমাধান দিতে অক্ষম। নেপাল এখন উন্নয়নের নেশায় না মেতে পরিবেশগত সুরক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন কৌশলের দিকে ঝুঁকছে। দেশটির নীতিনির্ধারকদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো জলবিদ্যুতের উৎপাদন বজায় রেখে দুর্যোগ সহনশীল অবকাঠামো নিশ্চিত করা।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.