খেলাধুলা ডেস্ক, নবদিশা: এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে শিরোপা জয় করেছে ভারত। তবে দুবাইয়ের এই জয়ের রাতটি স্মরণীয় হয়ে রইল ভিন্ন এক কারণে। হারমানপ্রীত কৌরের নেতৃত্বাধীন দল এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতি মহসিন নাকভির হাত থেকে ট্রফি গ্রহণ করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
কূটনৈতিক উত্তেজনার ছায়া মাঠে
এই নাটকীয় ঘটনার সূত্রপাত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। শ্রীলঙ্কার খেলোয়াড়রা তাদের রানার্স-আপ মেডেল গ্রহণের পর অনুষ্ঠানটি কার্যত থমকে যায়। ভারতের খেলোয়াড়রা মঞ্চে উপস্থিত থাকলেও তারা এসিসি সভাপতি মহসিন নাকভির হাত থেকে না তো ট্রফি নিয়েছেন, না গ্রহণ করেছেন কোনো মেডেল।
এর আগেও গত বছর একই ভেন্যুতে পুরুষদের এশিয়া কাপের সময় ভারতীয় দল ট্রফি গ্রহণে অনীহা দেখিয়েছিল। ক্রিকেট মাঠে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার এই অঘোষিত টানাপোড়েন এখন আরও স্পষ্ট হলো। ২০২৫ সালের মে মাসে সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টির পর থেকেই দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে শীতলতা বিরাজ করছে। ভারতীয় দলগুলো এখন পাকিস্তানের কোনো কর্মকর্তা বা খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন করা থেকেও বিরত থাকছে।
বিসিসিআইয়ের কঠোর অবস্থান
ভারতের নারী দলের প্রধান কোচ আমল মুজুমদার পুরো বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নেওয়া সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই দলের। তাদের কাছে টুর্নামেন্টটি মাঠের জয় দিয়েই শেষ হয়েছে।
টুর্নামেন্টের ট্রফি না নিলেও ভারতীয়রা নিজেদের মতো করেই উদযাপনে মেতেছিল। মাঠেই দলের ফিল্ডিং কোচ মুনিশ বালি খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পুরস্কার প্রদান করেন। এমনকি বিসিসিআই সেক্রেটারি দেবজিৎ সাইকিয়া এবং ভাইস-প্রেসিডেন্ট রাজীব শুক্লা সেখানে উপস্থিত থেকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছেন।
ভারতের এই অনমনীয় অবস্থান এশিয়ান ক্রিকেটের মঞ্চে এক নতুন বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে। বড় স্কোরবোর্ডে যখন ভারতের নাম বিজয়ী হিসেবে জ্বলজ্বল করছিল, তখন ট্রফি এড়িয়ে যাওয়ার মাধ্যমে তারা নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। আপাতত দলটি তাদের পরবর্তী মিশন এশিয়ান গেমসের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমন দৃশ্যপট নিয়মিত চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা মাঠের খেলার চেয়ে মাঠের বাইরের সমীকরণকেই বেশি বড় করে তুলছে।

মন্তব্য করুন