খেলাধুলা ডেস্ক, নবদিশা: ইউএস ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে এক অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখলেন ফ্রান্সেস টিয়াফো। প্রথম দুই সেটে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত স্বদেশি অ্যালেক্স মিকেলসনকে হারিয়ে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলেন এই মার্কিন টেনিস তারকা। চার ঘণ্টা ৩৮ মিনিটের দীর্ঘ লড়াই শেষে টিয়াফো জয়ী হন ৫-৭, ৩-৬, ৭-৫, ৬-৩, ৭-৬ (১০-৬) সেটে।
লড়াইয়ের মানসিকতায় ঘুরে দাঁড়ালেন টিয়াফো
বিশ্বের ৪৬ নম্বর র্যাঙ্কিংয়ের খেলোয়াড় মিকেলসন ম্যাচের প্রথমার্ধে রীতিমতো শাসন করছিলেন টিয়াফোকে। প্রথম দুই সেট জিতে সেমিফাইনালের পথ অনেকটা প্রশস্ত করে ফেলেছিলেন ২২ বছর বয়সী এই তরুণ। তবে তৃতীয় সেটে ৫-৩ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর টিয়াফোর ঘুরে দাঁড়ানোর যে মানসিক শক্তি দেখা গেল, তা ছিল দর্শনীয়। সেখান থেকেই তিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে শুরু করেন।
ম্যাচ শেষে টিয়াফো তার প্রতিপক্ষকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন। মিকেলসনকে তিনি অত্যন্ত মেধাবী খেলোয়াড় হিসেবে অভিহিত করে জানান, যেকোনো মুহূর্তেই জয়ী হওয়ার ক্ষমতা ছিল তার। নেটের কাছে টিয়াফো যখন কান্নায় ভেঙে পড়া মিকেলসনকে জড়িয়ে ধরছিলেন, তখন সেটি ছিল খেলার মাঠের এক আবেগঘন দৃশ্য। এই জয় টিয়াফোর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ গত কয়েক বছরে সেমিফাইনালে হার মানা এই খেলোয়াড় এবার ট্রফির খুব কাছে।
গত বছর তৃতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়ার পর কোচ পরিবর্তন এবং নিজের খেলার কৌশলে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছিলেন টিয়াফো। সেই কঠোর পরিশ্রমের প্রতিফলন এবার স্পষ্ট। ইউএস ওপেনের সেমিফাইনালে এখন তার অপেক্ষায় রয়েছে কার্লোস আলকারাজ অথবা বেন শেলটনের মধ্যকার বিজয়ী। ফ্লাশিং মিডোসে এবার প্রথমবার ফাইনালে খেলার স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবেন ২৮ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়। দর্শকদের অকুন্ঠ সমর্থন আর নিজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাটাই এখন তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

মন্তব্য করুন