বিনোদন ডেস্ক, নবদিশা: ডিজিটাল যুগে সিনেমা বা ওয়েব সিরিজের ব্যবসায়িক মডেল আমূল বদলেছে। প্রথাগত প্রচারের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে কনটেন্টের গুণগত মান এবং দর্শকদের গ্রহণযোগ্যতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হচ্ছে বড় সাফল্যের গল্প। সম্প্রতি ‘মির্জাপুর’ কিংবা ‘হনুমান’-এর মতো জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর অবিশ্বাস্য সাফল্যের নেপথ্যে থাকা কৌশল নিয়ে মুখ খুলেছেন ‘রা-ওয়ান’ খ্যাত পরিচালক অনুভব সিনহা।
কন্টেন্টই যখন সেরা প্রচারক
অনুভব সিনহার মতে, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে কোনো ছবি বা সিরিজের ‘মাউথ পাবলিসিটি’ বা দর্শকমুখে প্রচারই সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। বড় বাজেটের বিজ্ঞাপন বা জাঁকজমকপূর্ণ প্রচারণার চেয়ে দর্শকরা এখন বিশ্বাসযোগ্য এবং শক্তিশালী চিত্রনাট্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। মির্জাপুরের মতো সিরিজগুলোর ক্ষেত্রে দেখা গেছে, দর্শকরাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এর প্রচারক হিসেবে কাজ করছে, যা সিরিজের বাজারমূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নতুন সমীকরণ
ওটিটি প্ল্যাটফর্মের উত্থান বিনোদনের পুরোনো হিসাব-নিকাশ পুরোপুরি ওলটপালট করে দিয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রচারের প্রথাগত মাধ্যমগুলোর চেয়ে অ্যালগরিদম এবং কন্টেন্ট রেকমেন্ডেশন সিস্টেম বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। যখন কোনো কনটেন্ট মানুষের আবেগকে ছুঁতে পারে, তখন সেটি নিজেই নিজের প্রচারের পথ তৈরি করে নেয়। অনুভব সিনহার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নির্মাতারা এখন প্রচারের পেছনে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করার চেয়ে চিত্রনাট্য উন্নয়নের দিকে বেশি বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।
এই নতুন ধারায় সফল হওয়ার মূলমন্ত্র হলো দর্শকদের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন। যেসব সিরিজ বা সিনেমা মানুষের প্রতিদিনকার জীবনের সাথে মিশে যেতে পারে, সেগুলোর সাফল্য এখন নিশ্চিত। এভাবেই কোনো বড় ধরণের ঘোষণা বা চমক ছাড়াই মির্জাপুরের মতো প্রজেক্টগুলো বাণিজ্যিকভাবে অভাবনীয় মুনাফা অর্জন করছে। বক্স অফিসের প্রথাগত ধাঁচ ভেঙে এই ডিজিটাল বিনোদনের জয়যাত্রা এখন নির্মাতাদের ভাবনায় বড় পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।

মন্তব্য করুন