অনলাইন ডেস্ক, নবদিশা: বাংলাদেশে দুর্নীতি দীর্ঘ সময় ধরে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছে। সরকারি অফিস থেকে শুরু করে বিচারব্যবস্থা—সর্বত্রই যেন এক অদৃশ্য দুর্নীতির শিকল মানুষকে বন্দি করে রেখেছে। সর্বশেষ বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আমাদের সামগ্রিক ব্যর্থতারই প্রতিফলন ঘটায়।
প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও উত্তরণের পথ
দুর্নীতি কেবল নৈতিক অবক্ষয় নয়, এটি একটি গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সংকট। নাগরিকরা যখন দেখেন যে নিয়ম মেনে কাজ করলে সময় নষ্ট হয়, তখন তারা শর্টকাট খুঁজেন। এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে।
শিক্ষাব্যবস্থায় মেধার পরিবর্তে আনুগত্যের মূল্যায়ন তরুণ প্রজন্মকে ভুল বার্তা দিচ্ছে। এটি দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড দুর্বল করে দেয়। বিচার বিভাগ ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে প্রকৃত অর্থেই শক্তিশালী করা না গেলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অসম্ভব।
প্রযুক্তি ব্যবহার দুর্নীতি কমানোর একটি বড় হাতিয়ার হতে পারে। ই-প্রকিউরমেন্ট এবং ডিজিটাল সেবা ব্যক্তিগত যোগাযোগ কমিয়ে স্বচ্ছতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। তবে প্রযুক্তি কোনো জাদুর কাঠি নয়, যতক্ষণ না প্রশাসনিক মানসিকতার পরিবর্তন ঘটছে।
রাজনৈতিক সংস্কার ছাড়া দুর্নীতি নির্মূল করা আকাশকুসুম কল্পনা। দলগুলোর অর্থায়নে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিলেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। দুর্নীতি কমানোর দায়ভার কেবল সরকারের একার নয়, এটি সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের দাবি রাখে।

মন্তব্য করুন