আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবদিশা: ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল কি না, তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে নানা মহলে জল্পনা চলছিল। এবার সেই ধোঁয়াশা পরিষ্কার করেছে ঢাকা এবং নয়াদিল্লি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পায়নি বাংলাদেশ।
গুঞ্জনের অবসান ও বিমসটেক প্রসঙ্গ
মূলত ভারত আয়োজিত বিমসটেক বা ‘বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন’-এর চেয়ার হিসেবেই এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই সংস্থাটি কাজ করে যাচ্ছে। ভৌগোলিক এবং কৌশলগত অবস্থানের কারণে এই আঞ্চলিক জোটটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, এবারের ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে যে আলোচনা সামনে এসেছে তা মূলত ভুল বোঝাবুঝির ফল। ভারত সরকার বিমসটেক ফোরামের সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সম্মেলনে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ দিয়েছিল। ব্রিকসের সদস্যপদ বা পর্যবেক্ষক মর্যাদা পাওয়ার সাথে এই আমন্ত্রণের কোনো সরাসরি সম্পর্ক ছিল না বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
কূটনৈতিক স্বচ্ছতার গুরুত্ব
আন্তর্জাতিক সম্পর্কে যেকোনো আমন্ত্রণের প্রেক্ষাপট সঠিকভাবে বোঝা অত্যন্ত জরুরি। ব্রিকসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে অতীতেও নানা মহলে আগ্রহ দেখা গেছে। বর্তমানে ঢাকা তার নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি ও কৌশলগত অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বৈশ্বিক ফোরামগুলোতে ভূমিকা রাখছে।
ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ না পাওয়া বা বিমসটেক হিসেবে আমন্ত্রণ পাওয়ার এই বিষয়টি কোনোভাবেই দেশের কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কাঠামোর মধ্যে কোন ফোরামের কী ভূমিকা, তা স্পষ্টভাবে বোঝা জরুরি। সাম্প্রতিক এই স্পষ্টীকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপট আরও স্বচ্ছ হলো।

মন্তব্য করুন