আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবদিশা: সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার ঘটনায় ব্যবহৃত উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্মটি উদ্ধার করেছে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী। ইরাকের নিরাপত্তা মিডিয়া সেলের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাদ মান এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দেশটির গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে এই সরঞ্জাম জব্দ করে।
হামলার নেপথ্যে কারা?
ইরাকি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞরা এই হামলার পেছনে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে কাজ করছেন। হামলার তদন্তে ইরানকে যুক্ত করার একটি অনুরোধ ইরাকের কমান্ডার-ইন-চিফ অনুমোদন করেছেন। পাশাপাশি, এই ঘটনায় প্রাপ্ত তথ্য আদান-প্রদানের জন্য বাগদাদ ও রিয়াদ সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করছে।
সৌদি আরবের গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, ড্রোনগুলো ইরাকের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মায়সান প্রদেশের আল-তায়েবের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। এই এলাকাটি ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই অঞ্চলটি ড্রোন উৎক্ষেপণের জন্য কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের নীতি
ইরাকি সরকার তাদের পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছে, দেশটি ‘প্রতিরোধমূলক সার্বভৌমত্ব’ নীতি অনুসরণ করছে। এর অর্থ হলো, কেবল নিজস্ব ভূখণ্ড রক্ষা নয়, বরং ইরাকের মাটিকে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। কোনো অবস্থাতেই ইরাককে আঞ্চলিক প্রক্সি যুদ্ধের অংশ হতে দেওয়া হবে না বলে বাগদাদ কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে এই ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে পাইপলাইনটির কার্যক্রম সতর্কতা হিসেবে সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছিল, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ বহন করে। বাগদাদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে সৌদি কর্তৃপক্ষ আপাতত কোনো পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ থেকে বিরত রয়েছে। বর্তমানে তদন্তের পরবর্তী ধাপ এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে।

মন্তব্য করুন