আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবদিশা: ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক বিদেশের মাটিতেও বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন। বাংলাদেশ থেকে হুন্ডি এবং অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতি মাসে বিপুল অঙ্কের টাকা তার কাছে পৌঁছাচ্ছে। জানা গেছে, ঢাকা ও বরিশালের বিভিন্ন স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ভাড়া এবং ব্যবসার লভ্যাংশ এই পাচারের প্রধান উৎস।
অর্থ পাচারের নেপথ্যে গোপন নেটওয়ার্ক
নানকের ঘনিষ্ঠ তিন ব্যক্তির একটি চক্র পুরো অর্থ পাচার প্রক্রিয়ার কলকাঠি নাড়ছে। বরিশাল নগরীর সদর রোড ও কাঠপট্টি এলাকার দুই ব্যবসায়ী স্বর্ণ ও হোটেল ব্যবসার আড়ালে এই অবৈধ হুন্ডি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তারা নানকের মালিকানাধীন ভবনগুলোর ভাড়া সংগ্রহ করে তা রুপি হিসেবে কলকাতায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন।
পাশাপাশি, ঢাকার তিনটি বাড়ি এবং একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক আয়ের একটি অংশও নিয়মিত পাচার হচ্ছে। বেনাপোল সীমান্তের একটি মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের মালিক এই প্রক্রিয়ায় প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন। যশোরের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন করে তারা পশ্চিমবঙ্গের নির্দিষ্ট এজেন্টদের কাছে টাকা পৌঁছে দিচ্ছেন।
বিলাসী আবহে আত্মগোপন
গত ১৬ আগস্ট তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ভারত প্রবেশ করে নানক প্রথমে শিলং ও পরে কলকাতায় আশ্রয় নেন। তার মেয়ে জামাতা ডা. নাজমুলের পরিকল্পনায় তিনি কলকাতার অভিজাত এলাকা তপসিয়াতে আগে থেকেই ভাড়া রাখা একটি ফ্ল্যাটে উঠেছেন। তাকে ও তার স্ত্রীকে নিয়মিত কলকাতার নামি শপিংমলগুলোতে কেনাকাটা করতে দেখা যাচ্ছে।
অথচ ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, নানক ও তার স্ত্রীর মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল মাত্র ৬৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। অথচ বর্তমানে বিদেশে পালিয়ে থাকা অবস্থায় এই দম্পতির বিলাসবহুল জীবনযাত্রার ব্যয়ভার বহন করছে বাংলাদেশের অবৈধ অর্থ। নানকের ছোট ভাই বর্তমানে এই পাচারের পুরো প্রক্রিয়াটি আড়াল থেকে তদারকি করছেন।

মন্তব্য করুন