আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবদিশা: ভারতে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি)। ছত্তিশগড়, তেলেঙ্গানা ও বিদর্ভ অঞ্চলে আগামী কয়েকদিন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এই এলাকাগুলোর জন্য কমলা সংকেত জারি করা হয়েছে, যেখানে ১১৫ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারী বৃষ্টির কবলে একাধিক রাজ্য
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, দক্ষিণ ছত্তিশগড়ের ওপর একটি নিম্নচাপ অবস্থান করছে যা পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর প্রভাবে উত্তর ভারতের পার্বত্য অঞ্চল ও সমতল ভূমিতে আবহাওয়ার ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দিল্লি, হরিয়ানা, পাঞ্জাব এবং উত্তর প্রদেশে আগামী কয়েকদিন বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা হাওয়াসহ বজ্রপাতের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সমুদ্র উত্তাল থাকায় গুজরাট ও অন্ধ্র উপকূলের মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যেতে বারণ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন নিচু এলাকার বাসিন্দাদের জলবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির বিষয়ে আগাম সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
একদিকে বৃষ্টি, অন্যদিকে তীব্র দহন
দেশজুড়ে মৌসুমি বৃষ্টিপাত সক্রিয় থাকলেও রাজস্থানের বিকানীরে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বর্ষাকালের মধ্যে এই অঞ্চলের তীব্র তাপমাত্রা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। উত্তরাঞ্চলের এই গরম আবহাওয়ার সাথে পশ্চিমাঞ্চলের ঝড়ের প্রভাব ভারতের সামগ্রিক জলবায়ুর ভিন্ন রূপ প্রকাশ করছে।
দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে বন্যার আশঙ্কা এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতের শুষ্ক গরম একই সময়ে দেশটিতে বৈচিত্র্যময় আবহাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দুর্যোগ মোকাবিলায় জরুরি সেবা প্রস্তুত রেখেছে এবং নিয়মিত আবহাওয়ার বুলেটিন অনুসরণ করতে সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানানো হয়েছে। নিয়মিত ব্যবধানে বৃষ্টিপাতের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে যেন যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দেওয়া সম্ভব হয়।

মন্তব্য করুন