📅 শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬  |  ২০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নবোদিশা সত্য ও ন্যায়ের সাথে প্রতিদিন
বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

ভারত থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেলেই আন্তঃদেশীয় ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত

ভারত থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেলেই আন্তঃদেশীয় ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবদিশা: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধ থাকা আন্তঃদেশীয় ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু করার বিষয়টি এখনো প্রাথমিক আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। তিন দিনব্যাপী ৩৮তম বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃসরকার রেলওয়ে মিটিং (আইজিআরএম) শেষে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আসার পরই বাংলাদেশ সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

পদ্মা সেতু দিয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেসের সম্ভাবনা

বৈঠকে মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটি পদ্মা সেতু হয়ে পরিচালনার বিষয়ে ভারতীয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউল হক জানান, এটি একটি কারিগরি বিষয় এবং এর জন্য যথাযথ কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব প্রয়োজন। নতুন রুটে ট্রেন পরিচালনার সক্ষমতা যাচাই এবং ভাড়ার কাঠামো পুনর্নির্ধারণের মতো জটিল বিষয়গুলো এতে যুক্ত রয়েছে।

বর্তমানে মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, এই ট্রেনগুলো বাংলাদেশের তরফ থেকে বন্ধ করা হয়নি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষই নিরাপত্তার কারণসহ বিভিন্ন কারণে পরিষেবা স্থগিত রেখেছিল। তাই এগুলো চালুর দায়বদ্ধতা এবং উদ্যোগ ভারতের পক্ষ থেকেই আসতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যাত্রীচাহিদা ও কারিগরি মূল্যায়ন

আখাউড়া-আগরতলা রেলপথে যাত্রী পরিবহন শুরুর বিষয়েও এবারের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। গত বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভারতীয় পক্ষকে ওই রুটে সম্ভাব্য যাত্রীচাহিদার তথ্য এবং সহায়ক নথি জমা দেওয়ার কথা ছিল। তবে এবারের বৈঠকে পর্যন্ত ভারত থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায়নি, যা পুনরায় তাদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

দুই দেশের রেলওয়ের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক এবং আস্থার বিষয়টি আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। এবারের আলোচনায় পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনার সমস্যাগুলো নিরসনে দুই পক্ষই অধিক গুরুত্ব দিয়েছে। উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের প্রয়োজন রয়েছে এমন বিষয়গুলো পরবর্তী সময়ে যথাযথ প্রক্রিয়ায় উত্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের এই অবস্থান মূলত যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিশ্চিত করার ইঙ্গিত দেয়। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাবনা পাঠানোর পর বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবে। এরপরই রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরায় সচল করার বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.