📅 শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬  |  ২০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নবোদিশা সত্য ও ন্যায়ের সাথে প্রতিদিন
বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রে বিপন্ন গ্রে নেকড়ের সুরক্ষা বাতিল করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে বিপন্ন গ্রে নেকড়ের সুরক্ষা বাতিল করলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবোদিশা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রে নেকড়ে এবং মেক্সিকান নেকড়ের সুরক্ষায় থাকা বিপন্ন প্রজাতির মর্যাদা বাতিলের এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মূলত খামারিদের গবাদিপশু রক্ষার সুবিধার্থে এবং দেশটির কৃষি খাতের স্বার্থ বিবেচনায় এই বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। আদেশে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় র‍্যাঞ্চার বা পশুপালকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য এবং নেকড়েদের হাত থেকে তাদের সম্পদ রক্ষা করা জরুরি।

পরিবেশ ও অর্থনীতির দ্বন্দ্বে নেকড়ে

নির্দেশনা অনুযায়ী, মার্কিন স্বরাষ্ট্রসচিব ডগ বার্গামকে ৯০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে এটি নিশ্চিত করার জন্য যে, গ্রে নেকড়ে ও মেক্সিকান নেকড়ের জনসংখ্যা বর্তমানে এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে তাদের বিশেষ সুরক্ষার আর প্রয়োজন নেই। মার্কিন মৎস্য ও বন্যপ্রাণী পরিষেবা বিভাগের তথ্যমতে, ১৯৯৮ সালে পুনঃপ্রবর্তনের পর মেক্সিকান নেকড়ের সংখ্যা চার থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৩১৯-এ দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ১৮ হাজার গ্রে নেকড়ে রয়েছে, যারা দীর্ঘকাল ধরে মানব বসতি স্থাপনের কারণে তাদের প্রাকৃতিক আবাসন হারিয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন। তাদের মতে, নেকড়ের আক্রমণের কারণে পশুপালকদের আয়ের ওপর প্রভাব অত্যন্ত নগণ্য এবং এই আদেশ নেকড়ে সংরক্ষণের দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করবে। ওয়েস্টার্ন ওয়াটারশেডস প্রজেক্টের উপ-পরিচালক গ্রেটা অ্যান্ডারসন বিষয়টিকে রাজনৈতিক কৌশল বলে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, এই পদক্ষেপ মূলত খামারিদের তুষ্ট করার একটি প্রয়াস, যা নেকড়েদের অস্তিত্বকে পুনরায় হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, ২০২২ সালে নেকড়েদের এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা আইনি জটিলতায় আটকে গিয়েছিল। বর্তমানের এই নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধেও পরিবেশবাদীরা আবারও আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন বলছে, গত এক দশকে গরুর মাংসের চাহিদা ১০ শতাংশ বাড়লেও মার্কিন খামারগুলোর গবাদিপশুর সংখ্যা ৭৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। তাই দেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্য শিল্পের সুরক্ষায় এই ভারসাম্য আনা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে হোয়াইট হাউস।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.