আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবদিশা: ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার নতুন ঘোষণা দিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলেই। তিনি দাবি করেছেন, ইতিহাস ও আইনত দ্বীপপুঞ্জটি আর্জেন্টিনার অংশ এবং সেখানে তেল অনুসন্ধানে যুক্ত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছেন তিনি।
তবে ব্রিটেনের ডাউনিং স্ট্রিট এই দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ব্রিটিশ সরকারের মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন, ফকল্যান্ডের বিষয়ে যুক্তরাজ্যের অবস্থান ‘অটল’ এবং দ্বীপবাসী যতক্ষণ চাইবে, ততক্ষণই তারা ব্রিটিশ শাসনাধীন থাকবে।
সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও দ্বীপবাসীর আকাঙ্ক্ষা
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের জ্যেষ্ঠ নীতিনির্ধারকরা বলছেন, ফকল্যান্ডবাসীর ইচ্ছাকে সম্মান জানানোই তাদের মূল অগ্রাধিকার। ২০১৩ সালের এক গণভোটে দ্বীপের ৯৯.৮ শতাংশ বাসিন্দা ব্রিটিশ শাসনাধীন থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন, যা এই অঞ্চলের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রধান ভিত্তি।
যুক্তরাজ্যের মুখপাত্র জানিয়েছেন, দ্বীপপুঞ্জের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনী সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে। কোনো ধরনের উসকানি বা হুমকির মুখেও দ্বীপের সুরক্ষায় লন্ডন পিছপা হবে না বলে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন।
আর্জেন্টিনার হুমকির মুখেও ফকল্যান্ডের সি লায়ন তেলক্ষেত্রে অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্রিটিশ ও ইসরায়েলি যৌথ উদ্যোগ। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনায় তাদের কার্যক্রমে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে তারা আশা করছেন।
দক্ষিণ-পশ্চিম আটলান্টিক মহাসাগরের এই দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্রিটেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। ১৯৮২ সালের যুদ্ধের পর থেকে বিতর্কিত এই অঞ্চলটির মালিকানা নিয়ে উভয় দেশই তাদের নিজস্ব আইনি ও ঐতিহাসিক যুক্তি তুলে ধরে আসছে।

মন্তব্য করুন