📅 শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬  |  ২০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নবোদিশা সত্য ও ন্যায়ের সাথে প্রতিদিন
বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

স্টিভ আরউইনের প্রয়াণের দুই দশক: ‘ক্রোকোডাইল হান্টার’-এর উত্তরাধিকার

স্টিভ আরউইনের প্রয়াণের দুই দশক: ‘ক্রোকোডাইল হান্টার’-এর উত্তরাধিকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবদিশা: বিশ্বখ্যাত অস্ট্রেলীয় বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ এবং জনপ্রিয় টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব স্টিভ আরউইনের অকাল প্রয়াণের দুই দশক পূর্ণ হয়েছে। ২০০৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে একটি তথ্যচিত্র ধারণের সময় স্টিংরে মাছের আক্রমণে মাত্র ৪৪ বছর বয়সে তিনি প্রাণ হারান। তার এই আকস্মিক মৃত্যু বিশ্বজুড়ে বন্যপ্রাণী প্রেমীদের শোকের সাগরে ভাসিয়েছিল।

বাবার স্মৃতিতে বিন্দীর আবেগঘন বার্তা

তার কন্যা বিন্দী আরউইন বাবার ২০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। আট বছর বয়সে বাবাকে হারানো বিন্দী তাকে ‘সুপারহিরো’ হিসেবে অভিহিত করে লিখেছেন, পৃথিবী যেভাবে তার বাবার জন্য শোক প্রকাশ করেছে, তা তিনি দুই দশক ধরে অবলোকন করছেন। তিনি আরও জানান, বাবার আসল উত্তরাধিকার কেবল বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নয়, বরং মানুষের প্রতি ও প্রকৃতির প্রতি অগাধ ভালোবাসা।

বিন্দীর মা টেরি আরউইন এবং ছোট ভাই রবার্ট আরউইনও এই দীর্ঘ সময়ে স্টিভের স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে আছেন। বিন্দীর ভাষ্যমতে, তার মা জীবনের শ্রেষ্ঠ ভালোবাসার মানুষকে হারিয়েছেন, আর তিনি এবং তার ভাই হারিয়েছেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবাকে। শোক কখনো পুরোপুরি মুছে যায় না, বরং তা জীবনের নিত্যসঙ্গী হয়ে থাকে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমানে বিন্দীর ৫ বছর বয়সী মেয়ে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের সেই ‘গ্র্যান্ডপা ক্রোকোডাইল’-এর তথ্যচিত্রগুলো প্রতিদিন সকালে দেখে। দাদা স্টিভ আরউইনের সাথে কখনো দেখা না হলেও, তার কাজের মাধ্যমে সেই বন্ধন এখনো অম্লান। স্টিভের মৃত্যুর পর তার পরিবার কুইন্সল্যান্ডের অস্ট্রেলিয়া চিড়িয়াখানা পরিচালনার দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করে আসছেন।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের আন্দোলনে স্টিভ আরউইনের অবদান আজও বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। তার জীবনদর্শন ও প্রকৃতির প্রতি অকৃত্রিম মমত্ববোধ আজও নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে। এই পরিবারটি আজও স্টিভের সেই আদর্শকে সমুন্নত রেখে বিশ্বব্যাপী বন্যপ্রাণী রক্ষার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.