আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবদিশা:
টেনিসের আভিজাত্য ও অলিখিত শিষ্টাচারের সঙ্গে নতুন যুগের সোশ্যাল মিডিয়া প্রভাবশালীদের মেলবন্ধন এবার বড়সড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। নিউ ইয়র্কে চলমান ইউএস ওপেনে প্রায় ১০০ জন ইনফ্লুয়েন্সার ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরকে অ্যাক্রেডিটেশন দেওয়া হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ।
খেলা বনাম প্রচারের ভারসাম্য
টেনিস বরাবরই মাঠের নিস্তব্ধতা ও খেলোয়াড়দের একাগ্রতার জন্য পরিচিত। নেট কর্ডের পর ক্ষমা চাওয়া কিংবা লাইন কলের সততা বজায় রাখা এই খেলার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। তবে গ্যালারিতে প্রভাবশালীদের ভিড় সেই শান্ত পরিবেশে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।
বিশ্বের চতুর্থ বাছাই কোকো গফ এই পরিবর্তনের পক্ষে মত দিলেও শিষ্টাচারের গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, নতুন দর্শক বাড়াতে এই উদ্যোগ ইতিবাচক, তবে প্রতিটি ক্ষেত্রের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা আবশ্যক। রেড কার্পেটে যেমন পোশাকের সতর্কতা থাকে, তেমনি টেনিস গ্যালারিতেও নির্দিষ্ট আচরণের চর্চা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিতর্কের মূল কেন্দ্রে রয়েছে দুইবারের চ্যাম্পিয়ন নাওমি ওসাকার প্রথম রাউন্ডের ম্যাচটি। আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে ওসাকার সার্ভ করার সময় হসপিটালিটি সুইটে একদল প্রভাবশালীর ফটোশুট ও রিং লাইটের আলো আম্পায়ারকে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য করে। খেলার মাঝে এই ধরণের বিশৃঙ্খলা খেলোয়াড়দের মনোযোগের ওপর সরাসরি আঘাত হানে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ক্রীড়া সংস্কৃতি ও আধুনিকতার সংঘাত
টেনিসকে নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় করার প্রচেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে উপকারী হতে পারে। কিন্তু গ্যালারির দর্শক যখন খেলার চেয়ে নিজেদের কন্টেন্ট তৈরিতে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েন, তখন তা মূল খেলার অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। আয়োজকদের এখন ভাবতে হচ্ছে কীভাবে ডিজিটাল প্রচারের সুযোগ নিয়ে খেলার পবিত্রতা রক্ষা করা যায়।
খেলোয়াড়দের দাবি, গ্যালারিতে উপস্থিতি যেন কেবল ফটোশুটের জন্য না হয়। খেলার মাঠের मर्यादा বজায় রেখে নতুন দর্শককে টেনিসের গভীরে নিয়ে আসাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ইউএস ওপেনের এই অভিজ্ঞতা আগামী দিনগুলোতে অন্যান্য গ্র্যান্ড স্ল্যামের জন্য একটি দৃষ্টান্ত বা সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।

মন্তব্য করুন