আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবদিশা:
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আফ্রিকার প্রকৃত আয়তনকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। টোগোর উত্থাপিত এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের সমর্থিত ‘কারেক্ট দ্য ম্যাপ’ শীর্ষক এই রেজোলিউশনের পক্ষে ১৬৪টি সদস্য রাষ্ট্র ভোট দিয়েছে। মাত্র ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকলেও একমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
মানচিত্রের বিভ্রান্তি ও ঐতিহাসিক পটভূমি
ষোড়শ শতাব্দীতে ফ্লেমিশ মানচিত্রকার গেরার্ডাস মার্কেটর কর্তৃক তৈরি করা মানচিত্রটি এতদিন বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। মূলত ইউরোপীয় নাবিকদের সমুদ্রযাত্রার সুবিধার্থে তৈরি এই মার্কেটর প্রজেকশন মানচিত্রে পৃথিবীর গোলকীয় পৃষ্ঠকে দ্বিমাত্রিক তলে স্থাপন করা হয়। এতে বিষুবরেখার নিকটবর্তী দেশগুলোকে ছোট এবং মেরু অঞ্চলের দেশগুলোকে আকারে অস্বাভাবিক বড় দেখানো হয়েছে।
এই ত্রুটিপূর্ণ বিন্যাসের ফলে আফ্রিকা মহাদেশকে গ্রিনল্যান্ডের সমান আয়তনের মনে হতো, অথচ বাস্তবে আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের তুলনায় প্রায় ১৪ গুণ বড়। সমালোচকদের মতে, দীর্ঘ কয়েক শতাব্দী ধরে এই ভুল উপস্থাপনা বিষুবরেখীয় দেশগুলোর উন্নয়ন সম্ভাবনা ও গুরুত্বকে খাটো করে দেখিয়েছে। এই অসামঞ্জস্য দূর করতে ২০১৮ সালে কার্টোগ্রাফাররা ‘ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন’ নামে একটি নতুন মানচিত্র তৈরি করেন।
বর্তমানে গৃহীত নতুন এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিশ্ব মানচিত্রের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত বিভ্রান্তি দূর হওয়ার পথ প্রশস্ত হলো। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর দাবি, প্রকৃত আয়তনভিত্তিক এই মানচিত্র বৈশ্বিক পরিসরে ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে স্বচ্ছতা ও সমতা আনয়ন করবে। এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফ্রিকা মহাদেশের দেশগুলোর সীমানা চিহ্নিতকরণে অনিচ্ছাকৃত ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিল।

মন্তব্য করুন