📅 শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬  |  ২০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নবোদিশা সত্য ও ন্যায়ের সাথে প্রতিদিন
বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবদিশা: জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আল-আজরাক লক্ষ্য করে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি)। বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নিজেদের তেলবাহী জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার কঠোর প্রতিশোধ হিসেবেই এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে বলে দাবি করেছে তেহরান।

সংকট ঘনীভূত মধ্যপ্রাচ্যে

চলতি সপ্তাহে আইআরজিসি অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘কাসেম বাসির’ ব্যবহার করে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে আঘাত হানার দাবি করে। এর প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার মার্কিন বাহিনী পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করে দিলে পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গত এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে এটি ইরানের দ্বিতীয় হামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।

ইরানের এই আগ্রাসী অবস্থান বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। ইরান সরাসরি হুমকি দিয়েছে যে, তাদের ট্যাংকারে হামলার জবাব হিসেবে কুয়েত ও বাহরাইনের উপকূলের কাছে অবস্থানরত মার্কিন মিত্রদের জাহাজেও হামলা চালানো হবে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জোরদার এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রেখেছে।

ওয়াশিংটন-তেহরান দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা

যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস অতিবাহিত হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই সামরিক উত্তেজনার কোনো সুরাহা মেলেনি। উভয় পক্ষই নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শনে মরিয়া হয়ে উঠেছে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে এক দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কোনো পক্ষই সরাসরি বড় ধরনের যুদ্ধে জয়ী হওয়ার মতো সুবিধাজনক অবস্থানে নেই বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বর্তমানে তেহরানের এই নতুন আক্রমণ অঞ্চলটির নিরাপত্তা কাঠামোকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ এখনও এই হামলার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে জর্ডানের মতো মিত্র দেশে এই ধরনের সরাসরি হামলা ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে এই সংঘাতের প্রভাবে তেল ও গ্যাস বাজারের অস্থিরতা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.