📅 রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬  |  ২০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নবোদিশা সত্য ও ন্যায়ের সাথে প্রতিদিন
বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

বিচারিক সংবেদনশীলতায় ঘাটতি: ট্রাইব্যুনালের বিচারককে সরানোর নির্দেশ

বিচারিক সংবেদনশীলতায় ঘাটতি: ট্রাইব্যুনালের বিচারককে সরানোর নির্দেশ

অনলাইন ডেস্ক, নবদিশা: ফেনীর নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাঁদের ১১২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে এই মন্তব্য করেন।

অবিবেচনাপ্রসূত রায়ে দীর্ঘ ভোগান্তি

ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ে যথাযথ প্রমাণের অনুপস্থিতিতেও চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যা আইনের পরিপন্থী। হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ করেছেন, এ ধরনের অবিবেচনাপ্রসূত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন সাজা কোনো সভ্য সমাজে প্রত্যাশিত নয়। অভিযুক্তদের মধ্যে চারজন দীর্ঘ সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে কনডেমড সেলে যে অমানবিক দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন, তার দায় বিচারক এড়াতে পারেন না।

হাইকোর্ট স্পষ্ট করেছেন, দণ্ডিত ১৬ জনের মধ্যে মাত্র দুজনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি পাওয়া গেছে। বাকিদের ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের ভুল মূল্যায়ন ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে এক চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

বিচারক প্রত্যাহার ও সংশোধনমূলক নির্দেশনা

বিচারিক সংবেদনশীলতার ঘাটতির বিষয়টি আমলে নিয়ে হাইকোর্ট আইন মন্ত্রণালয়কে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। পূর্ণাঙ্গ রায়ে উল্লেখ করা হয়, দণ্ডবিধি ও দণ্ডাদেশ প্রদানের বিধিমালা সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান অর্জন না করা পর্যন্ত ওই বিচারককে ফৌজদারি এখতিয়ার থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট বিচারককে ট্রাইব্যুনাল থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি কঠোর বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আদালতের এমন পর্যবেক্ষণ বিচারিক দায়িত্ব পালনে বিচারকদের অধিকতর সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। নুসরাত হত্যা মামলার দীর্ঘ বিচারিক পরিক্রমায় হাইকোর্টের এই রায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এক নতুন দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.