দেশের প্রযুক্তি বাজারে মিড-রেঞ্জ ও প্রিমিয়াম সেগমেন্টে দীর্ঘদিন ধরেই শাওমির ‘রেডমি নোট’ সিরিজ বিপুল জনপ্রিয়। সম্প্রতি প্রযুক্তিপ্রেমী ও সাধারণ স্মার্টফোন ক্রেতাদের মাঝে শাওমির পরবর্তী প্রজন্মের ফোন রেডমি নোট ১৭ প্রো ম্যাক্স (Redmi Note 17 Pro Max) নিয়ে তুমুল কৌতূহল ও অনুসন্ধান দেখা যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া ও গুগল ট্রেন্ডে শীর্ষস্থানে থাকা এই স্মার্টফোনের নজরকাড়া ডিজাইন, শক্তিশালী ক্যামেরা এবং নির্ভরযোগ্য ব্যাটারি ব্যাকআপ নিয়ে প্রযুক্তি মহলে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
শক্তিশালী পারফরম্যান্স, ২০০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা ও ডিসপ্লে
বিভিন্ন প্রযুক্তি পোর্টাল ও আন্তর্জাতিক লিক সূত্রে জানা যায়, রেডমি নোট ১৭ প্রো ম্যাক্স ফোনে থাকছে ৬.৭৮ ইঞ্চির ১.৫কে (1.5K) রেজুলেশনের কার্ভড অ্যামোলেড (AMOLED) ডিসপ্লে। এতে ১৪৪ হার্টজ আল্ট্রা-স্মুথ রিফ্রেশ রেট এবং সর্বোচ্চ ২৬০০ নিটস পিক ব্রাইটনেস পাওয়া যাবে, যা তীব্র রোদের মাঝেও চমৎকার ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে। ডিসপ্লের দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষায় ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক কর্নিং গরিলা গ্লাস আর্মার প্রোটেকশন।
ফটোগ্রাফিপ্রেমীদের জন্য ফোনটিতে বড় চমক হিসেবে যুক্ত হচ্ছে ২০০ মেগাপিক্সেলের অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন (OIS) সমর্থিত প্রাইমারি ক্যামেরা সেন্সর। এর পাশাপাশি ৫০ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা-ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স এবং ১২ মেগাপিক্সেলের টেলিফটো লেন্স থাকতে পারে। সেলফি ও স্পষ্ট ভিডিও কলিংয়ের জন্য সামনে থাকছে ৩২ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা-ক্লিয়ার সেন্সর। ফোনটির আধুনিক এআই ইমেজ অ্যালগরিদম কম আলোতেও পরিষ্কার, ঝকঝকে ও ভাইব্র্যান্ট ছবি ধারণ করতে সক্ষম।
ডিভাইসটির ভেতরে শক্তি জোগাতে কাজ করবে ৪ ন্যানোমিটার আর্কিটেকচারে তৈরি আধুনিক ফ্ল্যাগশিপ প্রসেসর। মাল্টিটাস্কিং ও উচ্চ গ্রাফিক্সের গেমিং মসৃণ করতে এতে ১২ জিবি ও ১৬ জিবি এলপিডিডিআর৫এক্স র্যামের পাশাপাশি ২৫৬ জিবি ও ৫১২ জিবি ইউএফএস ৪.০ স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্ট দেওয়া হচ্ছে। সফটওয়্যার হিসেবে থাকছে শাওমির নিজস্ব কাস্টম স্কিন হাইপারওএস ২.০ (HyperOS 2.0), যা অ্যান্ড্রয়েড ১৬ অপারেটিং সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
দীর্ঘস্থায়ী ৬৫০০ এমএএইচ ব্যাটারি ও বাংলাদেশে সম্ভাব্য দাম
স্মার্টফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় ব্যাটারি সবসময়ই ব্যবহারকারীদের প্রধান চাওয়া। রেডমি নোট ১৭ প্রো ম্যাক্স ডিভাইসে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাকআপ নিশ্চিত করতে দেওয়া হয়েছে শক্তিশালী ৬৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের (mAh) সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি। একই সঙ্গে দ্রুত চার্জিংয়ের সুবিধার্থে এতে রয়েছে ১২০ ওয়াট হাইপারচার্জ প্রযুক্তি। এর ফলে মাত্র ১৫ থেকে ১৮ মিনিটেই ফোনটি শূন্য থেকে শতভাগ চার্জ করে নেওয়া সম্ভব হবে বলে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের ধারণা।
বাংলাদেশের বাজারে ডিভাইসটির সম্ভাব্য দাম নিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গ্লোবাল মার্কেটে উন্মোচনের পরপরই বাংলাদেশের বাজারে এটি বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যেতে পারে। আনঅফিসিয়াল এবং পরবর্তীতে অফিসিয়াল চ্যানেলে ডিভাইসটির প্রাথমিক ভ্যারিয়েন্টের (১২ জিবি/২৫৬ জিবি) দাম ৩৮,০০০ থেকে ৪২,০০০ টাকা এবং টপ ভ্যারিয়েন্টটির (১৬ জিবি/৫১২ জিবি) দাম ৪৫,০০০ থেকে ৪৮,০০০ টাকার আশপাশে হতে পারে। চলতি বছরের শেষ প্রান্তিক নাগাদ আন্তর্জাতিক বাজারে ফোনটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন