📅 শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬  |  ২০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নবোদিশা সত্য ও ন্যায়ের সাথে প্রতিদিন
বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

বিচারিক আদালতের ফাঁসির রায়: ৭৪ শতাংশই টিকছে না হাইকোর্টে

বিচারিক আদালতের ফাঁসির রায়: ৭৪ শতাংশই টিকছে না হাইকোর্টে

অনলাইন ডেস্ক, নবদিশা: দেশের বিচারিক ব্যবস্থায় মৃত্যুদণ্ড প্রদানের প্রবণতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিচারিক আদালতে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশের প্রায় ৭৪ শতাংশই উচ্চ আদালতে টিকছে না। আইনের শাসন ও বিচারিক মানদণ্ড বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যানটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

ঢালাও ফাঁসির প্রবণতা ও বাস্তব চিত্র

ফেনীর আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলার রায়ের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। মামলার বিচারক সুচিন্তিত বিচারিক মানসিকতা ও বিবেচনাবোধ প্রয়োগে ব্যর্থ হয়েছেন বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে উচ্চ আদালত। এই ঘটনার পর বিচারিক আদালতের রায়ের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

গত জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২০টি ডেথ রেফারেন্স ও আপিল মামলার রায় বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিম্ন আদালত ৪৯ জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছিল। এর মধ্যে মাত্র ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। অর্থাৎ, প্রায় ৩৬ জনের সাজা উচ্চ আদালতে এসে পরিবর্তিত বা রহিত হয়েছে। সাজা পাওয়া এই ব্যক্তিদের মধ্যে ১৭ জন খালাস পেয়েছেন এবং ১৮ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

উচ্চ আদালতের বিশ্লেষণের গুরুত্ব

হাইকোর্টের রায়ের এই পরিসংখ্যান বিচারিক প্রক্রিয়ার গভীরতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। নিম্ন আদালতের রায়ের বিপরীতে উচ্চ আদালত তদন্তের দুর্বলতা, সাক্ষ্য-প্রমাণের অসংগতি ও মামলার পারিপার্শ্বিক অবস্থা অধিক গুরুত্বের সাথে বিশ্লেষণ করে। অনেক সময় জনচাপের মুখে বিচারিক আদালত আবেগতাড়িত হয়ে কঠোর সাজা ঘোষণা করে, যা পরে আইনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারে না।

ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অপরাধের ভয়াবহতা অনুযায়ী সাজা নির্ধারণ হওয়া উচিত, কিন্তু তা হতে হবে নিরেট প্রমাণের ভিত্তিতে। ঢালাওভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার মানসিকতা বিচারিক ভারসাম্য নষ্ট করে। উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়ের মাধ্যমে যে চিত্র উঠে আসছে, তা বিচারকদের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.