আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবদিশা: বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ রাজমুকুটধারী হিসেবে পরিচিত উগান্ডার ঐতিহ্যবাহী টোরো রাজ্যের রাজা ওয়ো নিম্বা কাম্বাম্বা ইগুরু রুকিদি চতুর্থের মরদেহ শেষবারের মতো নিজ দেশে ফিরেছে। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ক্যানসারের কাছে পরাজিত হন এই আধুনিকমনস্ক শাসক। এন্টেবে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতি ইউওয়েরি মুসেভেনি নিজেই উপস্থিত থেকে এই জনপ্রিয় রাজাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
ঐতিহ্য ও সংকটের সন্ধিক্ষণে রাজপরিবার
রাজা ওয়োর প্রয়াণে টোরো রাজ্যে এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে, যা আগামী নয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক পালনের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পাবে। আগামী শনিবার তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে, ঠিক যে দিনটিতে তিনি তার অভিষেকের বার্ষিকী উদযাপনের পরিকল্পনা করেছিলেন। মাত্র তিন বছর বয়সে সিংহাসনে বসা এবং আঠারো বছর বয়সে পূর্ণাঙ্গ রাজ্যাভিষেক হওয়া এই রাজা ছিলেন দুই মিলিয়নেরও বেশি মানুষের অনুপ্রেরণার কেন্দ্রবিন্দু।
বিমানবন্দরে সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে সেনাসদস্যদের তত্ত্বাবধানে হেলিকপ্টারে করে তার মরদেহ টোরো রাজ্যের কেইজেগোয়াতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সড়কপথে ফোর্ট পোর্টালে অবস্থিত রাজপ্রাসাদ কারুজিকাতে তার মরদেহ রাখা হয়েছে, যেখানে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এই শোকের আবহের মধ্যেই টোরো রাজ্যের উত্তরাধিকার নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
উগান্ডার সংসদ বৃহস্পতিবার এক বিশেষ অধিবেশনের মাধ্যমে রাজা ওয়োর স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছে। আইনপ্রণেতারা তাকে একজন আধুনিক সংস্কারক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যিনি আমৃত্যু শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে গেছেন। উগান্ডার বিদ্যমান রাজনৈতিক কাঠামোর বাইরে ঐতিহ্যবাহী এই রাজ্যগুলোর সাংস্কৃতিক প্রভাব দেশটির জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠিত এই রাজ্যের ত্রয়োদশতম monarch হিসেবে ওয়ো নিম্বার অকাল মৃত্যু স্থানীয় জনমনে গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে। এখন শোক কাটিয়ে রাজতন্ত্রের পরবর্তী ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়েই চলছে নানা জল্পনা। দেশজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন—এই ঐতিহ্যবাহী রাজ্যের পরবর্তী উত্তরাধিকারী কে হতে যাচ্ছেন?

মন্তব্য করুন