📅 রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬  |  ২০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নবোদিশা সত্য ও ন্যায়ের সাথে প্রতিদিন
বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

ইউক্রেনের গোয়েন্দা সদর দপ্তরে রাশিয়ার ড্রোন হামলা, কড়া জবাবের নির্দেশ জেলেনস্কির

ইউক্রেনের গোয়েন্দা সদর দপ্তরে রাশিয়ার ড্রোন হামলা, কড়া জবাবের নির্দেশ জেলেনস্কির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবদিশা: ইউক্রেনের প্রধান নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা সিকিউরিটি সার্ভিস অব ইউক্রেনের (এসবিইউ) সদর দপ্তরে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। শুক্রবার বিকেলে চালানো এই হামলায় সংস্থাটির প্রধান ওলেক্সান্দর পোলাদের ব্যক্তিগত কার্যালয়কে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়। আকস্মিক এই হামলায় কিয়েভের কূটনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে নতুন করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

ড্রোনটি নিখুঁত নিশানায় এসবিইউ প্রধানের কক্ষ ঘেঁষে আঘাত হানায় ভবনের সম্মুখভাগে তীব্র অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ছবিতে পাঁচতলা ভবনের সামনের দুটি জানালার অংশ দিয়ে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। ঘটনার পর পরই জরুরি উদ্ধারকারী দল দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।

হামলার সময় এসবিইউ প্রধান ওলেক্সান্দর পোলাদ নিজের দপ্তরে উপস্থিত ছিলেন কি না, তা সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে ঘটনার পর পরই ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পোলাদের সঙ্গে জরুরি ফোনালাপ করেছেন। সেখানে তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে একই ধরণের ও দৃশ্যমান সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন যে এই হামলায় অন্তত পাঁচজন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। তবে আহত ব্যক্তিরা হামলার সময় ভবনের ভেতরে কর্মরত ছিলেন নাকি বাইরের পথচারী ছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। টেলিগ্রামে দেওয়া অপর এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, আহতদের সবাইকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

কূটনৈতিক উদ্যোগ ও রাশিয়ার উসকানি

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এই হামলাকে বড় ধরনের যুদ্ধসংক্রান্ত উসকানি হিসেবে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি পদক্ষেপ দাবি করেছেন। তিনি বলেন, মস্কো এমন এক সময়ে এই বিধ্বংসী আঘাত হানল, যখন টেকসই শান্তির জন্য নতুন করে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার হচ্ছে। এর মাধ্যমে রাশিয়া তার আগ্রাসী মনোভাব এবং শান্তি আলোচনার প্রতি চরম অনাগ্রহ আবারও স্পষ্ট করল।

আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ শান্তি প্রতিনিধি দলের কিয়েভ ও মস্কো সফরের কথা রয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধিরা দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মধ্যস্থতার টেবিলে বসার ঠিক আগমুহূর্তে রুশ বাহিনী এই ড্রোন আক্রমণ চালাল। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, আলোচনার আগে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতেই মস্কো এই কৌশল বেছে নিয়েছে।

সামরিক সক্ষমতা ও পাল্টা জবাবের প্রস্তুতি

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেনীয় নিরাপত্তা সংস্থার প্রধানের দপ্তরকে সরাসরি ড্রোন হামলায় নিশানা করার ঘটনা রুশ প্রযুক্তির নিখুঁত নিশানার সক্ষমতা বৃদ্ধি নির্দেশ করে। ড্রোনটির সুনির্দিষ্ট আঘাত প্রমাণ করে যে রাশিয়ার গোয়েন্দা নজরদারি ও আক্রমণের নির্ভুলতা পূর্বের চেয়ে অনেক বেশি সুসংহত হয়েছে। এই ঘটনা কিয়েভের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পুনরায় পর্যালোচনা করতে বাধ্য করছে।

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী প্রস্তুত হওয়া মাত্রই এই হামলার সমকক্ষ ও উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী এই পাল্টা আক্রমণের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে এবং শত্রুপক্ষকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। কিয়েভ বর্তমানে ড্রোন হামলায় হওয়া সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করছে এবং শহরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.