চোট ও অনিশ্চয়তার মাঝে অবসর নিয়ে ভাবছেন নেইমার

অবসর নিয়ে ভাবছেন নেইমার

দীর্ঘদিনের চোট ও পুনর্বাসনের লড়াইয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তারকা নেইমার জুনিয়র। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে পেশাদার ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড স্বীকার করেছেন, বারবার চোটে পড়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা তার জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। তার ভাষায়, শারীরিক সীমাবদ্ধতা ও মানসিক চাপ একসঙ্গে সামলানো দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

চোট ও দীর্ঘ পুনর্বাসন

২০২৩ সালের অক্টোবরে হাঁটুর এসিএল চোটে গুরুতরভাবে আক্রান্ত হওয়ার পর প্রায় এক বছর মাঠের বাইরে থাকতে হয় নেইমারকে। এরপরও চোটের ধকল পুরোপুরি কাটেনি। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাকে আবার হাঁটুর অস্ত্রোপচার করাতে হয়।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চোটের সমস্যাও বেড়েছে, যার ফলে নিয়মিত ম্যাচ খেলার ধারাবাহিকতা ধরে রাখা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

২০২৬ বিশ্বকাপই প্রধান লক্ষ্য

সব প্রতিকূলতার মাঝেও ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে খেলাই এখন নেইমারের প্রধান লক্ষ্য। তবে দীর্ঘমেয়াদে ক্যারিয়ার কোন পথে যাবে, সে বিষয়ে তিনি নিজেও নিশ্চিত নন।

এক সাক্ষাৎকারে নেইমার বলেন,
“ভবিষ্যৎ আমার জন্য কী নিয়ে আসছে, আমি জানি না। হয়তো ডিসেম্বরেই অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারি। আমি ধাপে ধাপে এগোচ্ছি।”

তিনি আরও জানান, চলতি বছরটি তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ— শুধু ক্লাবের জন্য নয়, জাতীয় দল ও নিজের ক্যারিয়ারের জন্যও।

অস্ত্রোপচারের পর দ্রুত মাঠে ফেরার ইচ্ছা থাকলেও ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাকে নিয়ে ঝুঁকি নেয়নি। ধাপে ধাপে ফিটনেস ফেরানোর পরিকল্পনার মধ্য দিয়েই তাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

নেইমার বলেন,
“আমি দ্রুত ফিরে এসে দলকে সাহায্য করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বিশ্রাম নেওয়াটাই সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। এখন আমি আগের চেয়ে শক্তিশালী অনুভব করছি।”

তবে ছন্দ পুরোপুরি ফিরতে সময় লাগবে বলেও তিনি স্বীকার করেছেন।

জাতীয় দলে ফেরা এখনো অনিশ্চিত

২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে আর খেলেননি নেইমার। আবার দলে ফিরতে হলে শতভাগ ফিটনেস প্রমাণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন বর্তমান কোচ কার্লো আঞ্চেলত্তি।

কোচিং স্টাফের মতে, জাতীয় দলে ফেরার আগে নেইমারকে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ও শারীরিক সক্ষমতা দেখাতে হবে।

ক্যারিয়ারের অর্জন

২০১০ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর থেকে নেইমার ব্রাজিলের হয়ে খেলেছেন ১২৮টি ম্যাচ। এসব ম্যাচে তিনি করেছেন ৭৯টি গোল, যা তাকে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতায় পরিণত করেছে।

বার্সেলোনা ও পিএসজির হয়ে খেলে ইউরোপীয় ফুটবলেও তিনি দীর্ঘদিন আলো ছড়িয়েছেন।

ভবিষ্যৎ কী বলছে?

২০২৬ সালের শেষে অবসর নেবেন কি না— এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি নেইমার। তার মতে, বিশ্বকাপে আরেকটি চেষ্টার পরই তিনি ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

তিনি বলেন,
“প্রতিদিন আলাদা করে এগোচ্ছি। আমার অনুভূতিই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবে।”

চোট, অনিশ্চয়তা ও প্রত্যাবর্তনের এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত নেইমার কতদিন মাঠে থাকবেন এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলে জায়গা পাবেন কিনা— সেটাই এখন ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বড় প্রশ্ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.