📅 রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬  |  ২০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নবোদিশা সত্য ও ন্যায়ের সাথে প্রতিদিন
বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া লেমুর এবার আম্বানির চিড়িয়াখানায়

বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া লেমুর এবার আম্বানির চিড়িয়াখানায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবদিশা: বাংলাদেশের গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া দুটি বিরল প্রজাতির রিংটেইলড লেমুর ভারতের গুজরাটে অবস্থিত একটি বিলাসবহুল চিড়িয়াখানায় শনাক্ত হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অত্যন্ত বিপন্ন এই প্রাণী দুটি বর্তমানে মুকেশ আম্বানির শিল্পগোষ্ঠী রিলায়েন্সের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত ‘বনতারা’ বন্যপ্রাণী কেন্দ্রে রয়েছে।

আন্তর্জাতিক পাচার চক্র ও আম্বানির বনতারা

তদন্তকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে সাফারি পার্ক থেকে তিনটি লেমুর চুরি হয়। চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রাণীগুলোকে ভারতে পাচার করা হয় এবং পরবর্তীতে প্রায় ৪৮ লাখ ভারতীয় রুপি মূল্যে সেগুলো হাতবদল হয়। চুরির এই ঘটনায় আটজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, যার মধ্যে ছয়জন আদালতে অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

ভারতের গুজরাটে অবস্থিত প্রায় ৩ হাজার ৫০০ একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত ‘বনতারা’ মূলত একটি চিড়িয়াখানা ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র। অনন্ত আম্বানির বিশেষ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রটি রাধে কৃষ্ণ টেম্পল এলিফ্যান্ট ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন।

ফেরত আনার জটিল প্রক্রিয়া

বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া প্রাণীগুলো উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা এখন আইনি ও প্রযুক্তিগত জটিলতার মুখে পড়েছে। বাংলাদেশে অবশিষ্ট থাকা লেমুরটির সঙ্গে পাচার হওয়া প্রাণীগুলোর ডিএনএ প্রোফাইলের মিল খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তবে প্রাণীগুলোর শরীরে মাইক্রোচিপ বা কোনো বিশেষ শনাক্তকরণ নম্বর না থাকায় পরিচয় নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে প্রাণীগুলোকে উদ্ধার করার জন্য ঢাকা ইন্টারপোলের সহায়তা চেয়েছে। বাংলাদেশ বন বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের যোগসাজশ ছাড়া এত সুরক্ষিত সাফারি পার্ক থেকে এ ধরনের প্রাণী পাচার করা প্রায় অসম্ভব। এ বিষয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি বনতারা কর্তৃপক্ষের কাছে মন্তব্য জানতে চেয়েও কোনো সাড়া পায়নি। বর্তমানে মামলার তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ও কূটনৈতিক পর্যায়ে সমাধানের পথ খুঁজছে বাংলাদেশ।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.