আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবদিশা: ১৮৯৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকার শিকাগোয় বিশ্ব ধর্ম মহাসম্মেলনে স্বামী বিবেকানন্দের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ আজও বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। দীর্ঘ ১৩১ বছর পেরিয়ে এসেও তাঁর সেই তেজস্বী কণ্ঠের আহ্বান আজও অসামান্য প্রাসঙ্গিকতা ধরে রেখেছে। ভারতীয় সংস্কৃতির মূল সুর ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বার্তা সেদিন বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি।
বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় দর্শনের জয়যাত্রা
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শুক্রবার সমাজমাধ্যমে স্বামীজির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, সেইদিনের হৃদয়গ্রাহী বক্তৃতা কেবল একটি ভাষণ ছিল না, তা ছিল ভারতীয় সভ্যতার মূল দর্শনের এক উজ্জ্বল ঝলক। আজও তাঁর অনুপ্রেরণামূলক প্রতিটি শব্দ বিশ্ববাসীর কাছে নতুন পথের দিশা হয়ে ধ্বনিত হয়।
শিকাগোর ধর্ম মহাসভায় স্বামীজির সেই বিখ্যাত ‘ভাই ও বোনেরা’ সম্বোধন বিশ্বকে ভ্রাতৃত্বের এক নতুন সংজ্ঞার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল। সেই বার্তা সংকীর্ণতা পেরিয়ে উদার মানবিকতার জয়গান গেয়েছিল, যা আধুনিক বিশ্বেও সমানভাবে প্রয়োজনীয়। আজও বহু দেশ তাঁর সেই অসাম্প্রদায়িক বাণীর আলোকে নিজেদের সামাজিক প্রেক্ষাপট বিচার করে থাকে।
স্মরণ ও মননে বিবেকানন্দ
স্বামীজির শিকাগো বক্তৃতার গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে ভারতে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) বা সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো সরাসরি আয়োজক না হলেও, নেপথ্যে ‘স্বামী বিবেকানন্দের শিকাগো বক্তৃতার ১২৫ বর্ষ উদ্যাপন সমিতি’র মতো মঞ্চ কাজ করছে। এই ধরণের উদ্যোগগুলো তরুণ প্রজন্মের কাছে স্বামীজির আদর্শকে আরও নিবিড়ভাবে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াস হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
স্বামী বিবেকানন্দের চিন্তাধারা কেবল ধর্মীয় গণ্ডিতে আবদ্ধ ছিল না, বরং তা ছিল জাতীয় পুনর্জাগরণ ও আত্মশক্তির এক অনন্য সমন্বয়। প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর বার্তায় সেই সত্যকেই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিলেন, যা রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। শিকাগোর সেই বক্তৃতা আজও ভারতীয় কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক শক্তিশালী দলিল হিসেবে টিকে আছে।

মন্তব্য করুন