অনলাইন ডেস্ক, নবদিশা: এক সময়ের মৎস্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত শেরপুর জেলা সদর ও গারো পাহাড়ি অঞ্চল থেকে দ্রুত বিলুপ্ত হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়গুলোতে মিঠা পানির মাছের যে প্রাচুর্য ছিল, তা আজ কেবলই স্মৃতি। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাছ পাঠানোর সেই অতীত চিত্র এখন আর নেই।
বিলুপ্তির পথে দেশীয় মাছ ও পুষ্টির সংকট
মৎস্য বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় জেলেদের তথ্যানুযায়ী, জেলায় প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ প্রজাতির দেশীয় মাছ এখন বিলুপ্তির পথে। এর মধ্যে কৈ, মলা, চেলা, ঢেলা, টাকি, মাগুর, শিং, পাবদা ও বোয়ালের মতো পুষ্টিকর মাছ এখন বাজারে সচরাচর মেলে না। খামারের মাছের দখলে থাকা বাজারগুলোতে দেশীয় মাছের দুষ্প্রাপ্যতা ও অত্যধিক দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। ফলে প্রান্তিক জনপদ প্রোটিনের উৎস হিসেবে এসব মাছ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদী পুষ্টিহীনতার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
নাব্যতা হ্রাস ও অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কুফল
নদীগুলোর নাব্যতা হ্রাস, খাল-বিল ভরাট করে কৃষি জমি বা বসতবাড়ি তৈরি এবং জলমহালগুলোতে স্বেচ্ছাচারিতা মাছের আবাসস্থল ধ্বংসের অন্যতম প্রধান কারণ। এ ছাড়া, মাছের অভয়াশ্রমের পার্শ্ববর্তী জমিতে কীটনাশকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার ও অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণের ফলে প্রজনন চক্র বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কারেন্ট জাল ও নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালের যথেচ্ছ ব্যবহার মৎস্যসম্পদকে এক প্রকার ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রজনন মৌসুমে মা ও পোনা মাছ নিধন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। যদিও প্রতি বছর সরকারিভাবে পোনা অবমুক্ত করা হয়, তবে জলাশয়ের পরিবেশ অনুকূল না থাকায় এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবেও জলাশয়গুলোর বাস্তুসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, অবিলম্বে সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে শেরপুরের মৎস্যসম্পদ পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

মন্তব্য করুন