📅 রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬  |  ২০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নবোদিশা সত্য ও ন্যায়ের সাথে প্রতিদিন
বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

বিশ্বের দেশে দেশে ইফতার: ভিন্ন স্বাদ, এক অনুভূতির গল্প

রমজানে বিভিন্ন দেশের ইফতার খাবার

পবিত্র রমজান মাস মানেই সংযম, আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের সময়। সারাদিন রোজা রাখার পর সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে আজানের ধ্বনিতে শুরু হয় ইফতারের আনন্দ। খেজুর ও পানির প্রথম চুমুক শুধু শরীর নয়, মনকেও প্রশান্ত করে তোলে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানুষ কীভাবে রোজা ভাঙে? খাবার কি ভিন্ন? নাকি অনুভূতিটাই এক?

বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের ইফতার সংস্কৃতি ঘুরে দেখলে দেখা যায়, স্বাদ ও উপকরণ আলাদা হলেও রমজানের মূল চেতনা সর্বত্রই একই।

মধ্যপ্রাচ্য: ঐতিহ্য ও ভ্রাতৃত্বের মিলন

মধ্যপ্রাচ্যে ইফতার সাধারণত শুরু হয় খেজুর ও পানি দিয়ে, যা সুন্নাহ ও ঐতিহ্যের অংশ। এরপর পরিবেশন করা হয় লেন্টিল সুপ, হারিরা, সামোসা, ফালাফেল, হামুস, খবজ ও বিভিন্ন ধরনের কাবাব।

অনেক দেশে মসজিদের সামনে সারিবদ্ধ টেবিলে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই একসঙ্গে ইফতার করেন। এখানে ইফতার শুধু খাবার নয়, বরং ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতার প্রতীক।

তুরস্ক: পরিমিত ও মার্জিত ইফতার

তুরস্ক–এ রমজান মানেই বিশেষ পিদে রুটি। ইফতারে থাকে লেন্টিল সুপ, অলিভ, চিজ ও দই। মিষ্টান্ন হিসেবে জনপ্রিয় বাকলাভা ও গুল্লাজ।

তুর্কি ইফতার তুলনামূলকভাবে হালকা, স্বাস্থ্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ।

ইরান: পুষ্টি ও ঐতিহ্যের সমন্বয়

ইরান–এর ইফতার শুরু হয় খেজুর, পানি বা শরবত দিয়ে। জনপ্রিয় খাবারের মধ্যে রয়েছে ‘আশে রেসতে’ নামের সুপ, হালিম ও বিভিন্ন ধরনের নান রুটি।

মিষ্টান্ন হিসেবে জুলবিয়া ও বামিয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়। ইরানে ইফতার সাধারণত হালকা হলেও পুষ্টিগুণে ভরপুর।

বাংলাদেশ: আবেগ ও স্বাদের মেলবন্ধন

বাংলাদেশ–এর ইফতার মানেই ভাজাপোড়ার উৎসব। খেজুর ও শরবতের পর বেগুনি, পেঁয়াজু, আলুর চপ, পাকোড়া ও ছোলা ইফতারের প্রধান আকর্ষণ।

হালিম, জিলাপি, ফলমূল ও ফিরনিও ইফতার টেবিলে বিশেষ স্থান দখল করে। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে একসঙ্গে বসে ইফতার করা বাংলাদেশের সামাজিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

পাকিস্তান ও ভারত

পাকিস্তান ও ভারত–এ ইফতার সাধারণত বেশ সমৃদ্ধ। খেজুর ও ফলের পর থাকে সামোসা, পাকোড়া, ছোলা চাট ও রুহ আফজা শরবত।

হায়দ্রাবাদ ও লখনৌ অঞ্চলে হালিম বিশেষ জনপ্রিয়। পাশাপাশি কাবাব ও রোলও ইফতারের অংশ।

আফ্রিকা: সহজ ও পুষ্টিকর খাবার

আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ইফতার সংস্কৃতি ভিন্ন হলেও মূলত সহজ ও পুষ্টিকর খাবারই প্রাধান্য পায়।

উত্তর আফ্রিকায় যেমন মিশর ও মরক্কো–এ খেজুর ও দুধের সঙ্গে হারিরা সুপ জনপ্রিয়। পশ্চিম আফ্রিকায় ভাতভিত্তিক খাবার ও স্টু বেশি খাওয়া হয়।

ইউরোপ ও আমেরিকা: বৈচিত্র্যের মেলবন্ধন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোতে ইফতার মূলত মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া ও স্থানীয় খাবারের সংমিশ্রণ।

খেজুর ও পানির পর থাকে সুপ, ফালাফেল, কাবাব, পাস্তা, গ্রিলড চিকেন ও সালাদ। অনেক পরিবার স্বাস্থ্যকর খাবারে বেশি গুরুত্ব দেয়।

এক অনুভূতির রমজান

বিশ্বের দেশে দেশে ইফতার আলাদা হতে পারে—কোথাও খেজুর, কোথাও বেগুনি, কোথাও সুপ। কিন্তু রমজান আমাদের শেখায় সংযম, কৃতজ্ঞতা ও সহমর্মিতা।

খাবারের পরিমাণ নয়, বরং একসঙ্গে বসে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশই রমজানের মূল শিক্ষা।

রমজান তাই শুধু একটি মাস নয়, এটি বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের হৃদয়কে এক সুতোয় বাঁধার এক অনন্য সময়।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.