📅 রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬  |  ২০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নবোদিশা সত্য ও ন্যায়ের সাথে প্রতিদিন
বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

ইরানে উদ্ধার মার্কিন পাইলট: পেন্টাগনের চাপে কি প্রচার?

ইরানে উদ্ধার মার্কিন পাইলট: পেন্টাগনের চাপে কি প্রচার?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবদিশা: ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের দুই ক্রুকে উদ্ধারের ঘটনাটি এখন ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও গণমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রে। সিএনএনের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিবিএসের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘৬০ মিনিটস’-এ এই উদ্ধার অভিযানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে সংশ্লিষ্ট দুই সেনাসদস্যের ওপর পেন্টাগন থেকে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল।

গত এপ্রিলে ইরানের আকাশসীমায় এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর মার্কিন বিশেষ বাহিনী পাইলট ও উইপন সিস্টেমস অফিসারকে উদ্ধার করে। উদ্ধার অভিযানের স্পর্শকাতরতা এবং সামরিক কৌশল প্রকাশের ঝুঁকি সত্ত্বেও এই ঘটনার প্রচার নিয়ে পেন্টাগনের রাজনৈতিক কর্মকর্তারা অধিক আগ্রহী ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

পেন্টাগনের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও প্রচারণার ছক

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের দপ্তরের কর্মকর্তারা শুরু থেকেই এই সাহসী অভিযানের বীরত্বগাথা জনসাধারণের সামনে তুলে ধরতে তৎপর ছিলেন। উদ্ধার হওয়া দুই সেনাসদস্য শুরুতে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে ইতস্ততবোধ করলেও পেন্টাগনের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে তাদের মানসিক চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

যদিও পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল এমন অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবেই ওই সেনাসদস্যদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত এবং পেন্টাগন কেবল নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়ে সতর্ক ছিল।

সাক্ষাৎকার নিয়ে লুকোচুরি

উদ্ধার অভিযানের পর থেকেই মার্কিন মূলধারার গণমাধ্যমগুলো ওই দুই সেনার সাক্ষাৎকার পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। সিবিএস নিউজের সংশ্লিষ্ট প্রযোজক ও শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে দফায় দফায় যোগাযোগ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

হেগসেথের সঙ্গে সেনাসদস্যদের ব্যক্তিগত বৈঠকের পর অবশেষে ‘ব্রাভো’ ছদ্মনামের একজন ক্রু সদস্য ক্যামেরার সামনে আসতে রাজি হন। তবে অপর ক্রু সদস্য ‘আলফা’ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখতে সাক্ষাৎকার এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

এই ঘটনা মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ পরিচালনা ও রাজনৈতিক প্রভাবের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চলমান ইরান পরিস্থিতি ও জনমত গঠনের প্রচেষ্টায় পেন্টাগনের কৌশলগত সক্রিয়তাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.