কুমিল্লা-৪ আসনে রাজনীতিতে ভিন্নধর্মী এক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন কাজ ও সরকারি সেবার অগ্রগতি সরাসরি জনগণের সামনে তুলে ধরতে তিনি ফেসবুক লাইভে এসে উপস্থাপন করেন বিস্তারিত হিসাব। স্লাইডশোর মাধ্যমে প্রায় ৪১ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডের এই লাইভটি অনেকের কাছেই যেন এক ধরনের “লাইভ ক্লাস” বলে মনে হয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে হাসনাত আব্দুল্লাহ নির্বাচনী এলাকায় চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, সরকারি বরাদ্দ এবং ত্রাণ বিতরণের বিস্তারিত তুলে ধরেন। “পুঁজি হলো সততা, না ইনসাফ জনতা”—এই স্লোগান সামনে রেখে দেওয়া সেই লাইভে তিনি ডিজিটাল বোর্ডে স্লাইড প্রদর্শনের মাধ্যমে কাজগুলোর অগ্রগতি ব্যাখ্যা করেন। পুরো উপস্থাপনাটি ছিল অনেকটা শিক্ষকসুলভ, যেখানে ধাপে ধাপে প্রতিটি প্রকল্পের তথ্য ও বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হয়।
লাইভে তিনি বিশেষভাবে দেবীদ্বার উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে কথা বলেন। রাস্তা নির্মাণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ত্রাণ বিতরণসহ বিভিন্ন কাজের ওয়ার্ডভিত্তিক বিবরণও তিনি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কাজের মান নিয়ে অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এক পর্যায়ে একটি রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, প্রকৌশলীদের পাঠিয়ে বিষয়টি যাচাই করা হবে এবং প্রয়োজনে কাজের মান সংশোধন করা হবে।
ঠিকাদারদের উদ্দেশ্যেও তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন। তার ভাষায়, প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের কমিশন বা অনৈতিক চাপ থাকবে না। বরং দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দ্রুত কাজ শেষ করার আহ্বান জানান তিনি। এতে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
এই উদ্যোগকে ধারাবাহিক করতে তিনি “জবাবদিহিতা” নামে একটি বিশেষ ফেসবুক পেজ খোলার ঘোষণাও দেন। তার মতে, এই পেজের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এলাকার সব উন্নয়ন কার্যক্রমের নিয়মিত আপডেট দেওয়া হবে এবং জনগণের কাছে প্রতিটি কাজের হিসাব স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হবে।
রাজনীতিতে আসার আগে হাসনাত আব্দুল্লাহ শিক্ষকতা ও কোচিং পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় থেকেই তিনি অনলাইনভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান “স্কুল অব এক্সিলেন্স”-এ ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। অনেকের মতে, সেই শিক্ষকসুলভ উপস্থাপনাই তার এই লাইভকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। সংসদ সদস্য হওয়ার পরও জনগণের সামনে এভাবে তথ্য উপস্থাপন করা রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লাইভের শেষ পর্যায়ে তিনি রাজনৈতিক ঐকমতের ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের বাস্তবায়নের গুরুত্বও তুলে ধরেন। একই সঙ্গে এলাকার উন্নয়নে সাধারণ মানুষের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন এবং কোথাও অনিয়ম দেখলে তা জানাতে জনগণকে আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন সংসদ সদস্যের সরাসরি জনগণের সামনে এসে উন্নয়ন কাজের হিসাব দেওয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে তুলনামূলকভাবে বিরল ঘটনা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে অন্য জনপ্রতিনিধিদের জন্যও একটি ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রশংসা করছেন।

Leave a Reply