জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন।
সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এক বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সেই প্রত্যাশা নিয়েই তারা সংসদে যোগ দিয়েছেন। তবে তাদের অভিযোগ, রাষ্ট্রপতি অতীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন, যার কারণে তার বক্তব্য শোনার নৈতিক অবস্থান নেই বলে তারা মনে করেন।
বিরোধী দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে তিনটি গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। তাদের দাবি, অতীতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলোতে রাষ্ট্রপতি যথাযথ প্রতিবাদ বা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়াকে তারা বড় ধরনের অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেন।
দ্বিতীয় অভিযোগ হিসেবে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ গ্রহণের কথা বললেও পরবর্তীতে গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভিন্ন বক্তব্য দেন। বিরোধী দলীয় নেতারা দাবি করেন, এতে জাতির সামনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং রাষ্ট্রপতির বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
তৃতীয় অভিযোগ হিসেবে তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর জারি করা একটি অধ্যাদেশ অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংস্কার পরিষদের সদস্য ও সংসদ সদস্য—এই দুই ভূমিকায় শপথ নেওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডেকে রাষ্ট্রপতি জনগণের রায়কে উপেক্ষা করেছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়।
বিরোধী দলের নেতারা জানান, এসব কারণে তারা রাষ্ট্রপতির ভাষণ শোনার বিরোধিতা করেছিলেন এবং স্পিকারকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের অনুরোধ গ্রহণ করা না হওয়ায় তারা প্রতিবাদস্বরূপ সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন।
তবে তারা জানান, সংসদ বর্জন নয়—বরং জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য তারা সংসদে তাদের ভূমিকা অব্যাহত রাখবেন। পরবর্তী অধিবেশনগুলোতে অংশ নিয়ে জনগণের স্বার্থে কথা বলারও ঘোষণা দেন তারা।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, রাষ্ট্রপতির বিভিন্ন অধ্যাদেশ জারির বিষয়েও তারা অতীতে একাধিকবার বক্তব্য দিয়েছেন এবং রাষ্ট্রপতির নৈতিক বৈধতা আগেই প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বিরোধী দলের নেতারা আরও বলেন, জাতীয় সংসদ কোনো ব্যক্তি বা দলের একার নয়; এটি দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষের সংসদ। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে তারা সংসদে উপস্থিত থেকে দেশের মানুষের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন।

Leave a Reply